জাদুকরের বিদায়ে সতীর্থদের আবেগঘন শ্রদ্ধার্ঘ্য

জাদুকরের বিদায়ে সতীর্থদের আবেগঘন শ্রদ্ধার্ঘ্য

ফন্ট সাইজ:

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে একটা যুগের অবসান ঘটলো। দীর্ঘ ২১ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ও বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপনী লিখে আলবিসেলেস্তেদের জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। সিদ্ধান্তটা অনেকটা অনুমিতই ছিল। তবে এই আকস্মিক স্তব্ধ পুরো ফুটবলবিশ্ব। রূপকথার এই নায়কের বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রদ্ধার পসরা সাজিয়ে বসেছেন সতীর্থরা। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক আনহেল ডি মারিয়া থেকে শুরু করে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ কিংবা এমিলিয়ানো মার্টিনেজ-প্রত্যেকেই তাদের প্রিয় ‘কাপ্তান’-এর উদ্দেশ্যে লিখেছেন হৃদয়ে দাগ কেটে যাওয়ার মতো সব বার্তা।

রদ্রিগো ডি পল:
‘দেশের প্রতি তোমার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার অদম্য শক্তি এবং প্রতিটি সতীর্থকে আপন করে নেয়ার মানসিকতা- সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ, ইতিহাসের সেরা। ক্যামেরার আড়ালে তোমার ভেতরের মানুষটাকে আমি দেখেছি। ফাইনালে নামার আগের রাতের চাপ, ভয় আর সমালোচনাগুলো তুমি যেভাবে হাসিমুখে সহ্য করেছ, তা অবিশ্বাস্য। আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, তবে সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার ছিল আমরা কখনো নিজেদের আসল রূপ হারিয়ে ফেলিনি। তোমাকে ভালোবেসে যাবো ভাই।’

ডি মারিয়া:
‘তোমার অবসরের খবরটা পড়া এত কঠিন, ভাবতেও পারিনি এই জার্সিতে তোমাকে আর কোনোদিন দেখব না। আমি ধন্য যে তোমার এই যুগে জন্ম হয়েছে এবং তোমার পাশে থেকে তোমার সব স্বপ্ন পূরণ হতে দেখেছি। তুমি চিরস্মরণীয়, সর্বকালের সেরা।’

এনজো ফার্নান্দেজ:
‘ছোটবেলায় তোমার বয়স আর আমার বয়স মিলিয়ে হিসাব কষতাম- কোনোদিন তোমার সঙ্গে খেলতে পারব কি না! ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল বলেই শুধু তোমার সাথে খেলার সুযোগই পাইনি, বরং বিশ্বজয়ের উল্লাসেও সঙ্গী হতে পেরেছি। লকার রুমে তোমার সেই সান্ত্বনার বাণী বা হাসিমুখ কোনোদিন ভুলব না। মিস করবো তোমায়, ক্যাপ্টেন।’

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ:
‘ক্যাপি! তুমি আমাদের ও পুরো আর্জেন্টিনা দেশের জন্য যা করেছ, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার জন্য এবং কল্পনারও বাইরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য শুধু ধন্যবাদ জানাতে পারি। আমার আজীবনের সম্মান তোমার জন্যই রইলো।’

হৃদয় পুড়লেও গর্বিত মা সেলিয়া ও স্ত্রী আন্তোনেল্লা
মেসির আজকের মেসি হয়ে উঠতে যে দুই নারীর অবদান অবিস্মরণীয়, তারা মেসির মা সেলিয়া কুচিত্তিনি ও স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো। প্রিয়জনের এই বিদায়ে হৃদয় পুড়লেও গর্বে ভরে উঠছে তাদের মন। স্বদেশি টিভি চ্যানেল আমেরিকা টিভির টক শো ‘ইন্ট্রুসোস’ অনুষ্ঠানে আবেগী কণ্ঠে সেলিয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ওর বাবা বাবা ওকে সব সময় বলতেন, ‘তুমি খেলা ছেড়ে দিলে আমি কী করবো?’ সবকিছু যেন একসঙ্গেই ঘটে গেল, অবিশ্বাস্য!”

ইনস্টাগ্রামে স্বামীর প্রতি লেখে খোলা চিঠিতে আন্তোনেল্লা লেখেন, ‘আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তোমার এই পুরো যাত্রাকে নিয়ে, তুমি যা কিছু জিতেছো তা নিয়ে এবং সবচেয়ে বড় কথা—প্রতিটি মুহূর্তে তোমার ভেতরে থাকা মানুষটিকে নিয়ে। তোমার পাশে থেকে এই সবকিছু অনুভব করতে পারাটা কত বড় সৌভাগ্যের! আমরা তোমাকে অফুরন্ত ভালোবাসি।’