আরএসএস’র বিরুদ্ধে আদর্শগত লড়াইয়ে পশ্চিমবঙ্গে পথে নামছে সিপিআইএম

আরএসএস’র বিরুদ্ধে আদর্শগত লড়াইয়ে পশ্চিমবঙ্গে পথে নামছে সিপিআইএম

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় এবং এর ধাক্কায় দলটিতে ভাঙ্গনের ফলে বিজেপি বিরোধী রাজনীতির ক্ষেত্রে শূণ্যতা তৈরি হয়েছে। সেই শূণ্যতা পূরণে সিপিআইএম সমস্ত শৈথিল্য কাটিয়ে ফের পথে নামতে চলেছে।

গত শনিবার ও রোববার কল্যাণী-তে আয়োজিত বর্ধিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির বৈঠকে সিপিআইএম সারা রাজ্য থেকে আসা ৩৫৫ জন প্রতিনিধির কাছে তিনটি মূল বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এগুলো হলো, তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, জনগণের, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করা এবং রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন গভীর করার লক্ষ্যেরাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ তথা আরএসএস ও বিজেপির প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা।
সিপিআ্ইএম নেতাদের মতে, আরএসএস-চালিত এক বৃহত্তর আদর্শগত প্রকল্পের নির্বাচনী ও সরকারি মুখ হলো বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় আরএসএস রাজ্যের রাজনীতির নেপথ্য থেকে সামনে চলে এসেছে, যার ফলে আদর্শগত লড়াইটি আরও প্রত্যক্ষ হয়ে উঠেছে। রাজ্যের এক সিপিআইএম নেতা বলেছেন, আরএসএস বাংলার বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তাই ক্ষোভ বা বাধ্যবাধকতার বশবর্তী হয়ে বিজেপিকে আর কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। এই লড়াই এখন আদর্শগত এবং তা সরাসরি আরএসএস-এর বিরুদ্ধে।

বর্ধিত রাজ্য কমিটির বৈঠকে সিপিআইএম-এর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এম.এ. বেবি এবং রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার আলোচনা সভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তারা আরএসএস-কে দল ও বাংলার মানুষের সামনে প্রধান আদর্শগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
পরে প্রকাশ্য অধিবেশনে বেবি আরএসএস-বিজেপি-র বিভাজনমূলক রাজনীতির স্বরূপ উন্মোচন করে তাদের ‘বিচ্ছিন্ন’ করতে এবং তৃণমূল স্তর পর্যন্ত লড়াই ছড়িয়ে দিতে দলীয় কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন।
বেবি বলেছেন, এরা সমাজে বিভাজন তৈরি করছে। আরএসএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে।

বেবি উল্লেখ করেছেন যে, রাজ্যে এই প্রথম আরএসএস-এর মতো একটি শক্তি ক্ষমতায় এসেছে। তারা জনগণের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রে এক ফ্যাসিবাদী সরকার চলছে। এটি কেবল ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকার নয়, বরং ‘ট্রিপল-ইঞ্জিন’ সরকার”।
সেলিম সিপিআইএম-এর লড়াইকে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার বৃহত্তর সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদীরা আমাদের ভয় দেখাতে চায়। কিন্তু আমরা ভীত নই। অবিচার ও অপশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের জন্য লড়াই আরও জোরদার হবে। আজ লড়াইটা সরাসরি বাম ও ডান শিবিরের মধ্যে। তৃণমূলের আসল রূপ এখন সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য, স্কুল-শিক্ষা, বেকারদের কর্মসংস্থান, কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক, গরিবের জন্য আবাসন, ভোটাধিকার এবং নারীর মর্যাদার লড়াই আরও তীব্র হবে।

অতীতে বামপন্থীরা সমালোচনার মুখে পড়েছিল কারণ তাদের সমর্থক গোষ্ঠীর একাংশ বিজেপিকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেছিল। নতুন এই কৌশলী অবস্থানের লক্ষ্য হলো বিজেপিকে আরএসএস-পরিচালিত বৃহত্তর আদর্শগত প্রকল্পের অংশ হিসেবে তুলে ধরে এ ধরনের কোনো কৌশলগত বিচ্যুতি রোধ করা।

তবে, বিজেপি-বিরোধী একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চের ক্ষেত্রে এই আদর্শগত অবস্থানটি ঠিক কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা অবশ্য দলের নেতৃত্ব স্পষ্ট করেননি।