ছিনতাইকারীর টানে শিক্ষিকার মৃত্যু, মূল অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ২

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে অটোরিকশা থেকে পড়ে স্কুলশিক্ষিকা রনজিলা পারভীন (৫৬) নিহত হওয়ার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-২। এ ছাড়া ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মূল সন্দেহভাজন মো. মোশারফ হোসেন পনি ওরফে প্যারা পনি ও তার সহযোগী স্যাড্রিক। র‌্যাব জানিয়েছে, ঘটনার দিন ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি প্যারা পনিরের হেফাজতে ছিল। মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিবের কাছ থেকে প্যারা পনি জোর করে নিয়েছিল। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব জানিয়েছে, প্যারা পনির প্রায়ই তার কাছ থেকে জোর করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যেতো।

শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় র‌্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক ডিআইজি নয়মুল হাসান। বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আবদুল মতিন অজ্ঞাতনামা দুই ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেজগাঁওয়ের পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকা থেকে প্যারা পনির ও তার সহযোগী স্যাড্রিককে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব জানায়, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ঘটনার দিন মোটরসাইকেলটি প্যারা পনিরের হেফাজতে ছিল।

প্যারা পনির জোর করে তার কাছ থেকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে গিয়েছিল। এর আগেও সে প্রায়ই জোর করে রাকিবের কাছ থেকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যেতো। নিহত রনজিলা পারভীনের স্বামী আবদুল মতিনও ঘটনাস্থলে ওই মোটরসাইকেলটি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। র‌্যাবের ভাষ্য, গ্রেপ্তারকৃত প্যারা পনির একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। রাজধানীর তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় সে ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার তরফসরতাজ গ্রামে। তার স্বামী আবদুল মতিন বগুড়া শহরের নিউমার্কেট এলাকায় পোশাকের ব্যবসা করেন।

তাদের একমাত্র মেয়ে তাকিয়া আকতার রাইসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বেশ কিছুদিন ধরেই রনজিলা চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। স্কুলের বিষয়ে খুব সচেতন ছিলেন তিনি। খুব প্রয়োজন ছাড়া ছুটি নিতেন না। শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় পরিকল্পনা করেন শনিবার ভোরে ঢাকায় এসে চিকিৎসক দেখিয়ে একই দিন রাতে বাসায় ফিরবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে স্বামী আবদুল মতিনকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়া থেকে বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন রনজিলা।

ভোরে গাবতলীতে বাস থেকে নেমে তারা অটোরিকশায় করে ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তাদের অটোরিকশাটি মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে পৌঁছালে পেছন থেকে মোটরসাইকেলে করে দুই ছিনতাইকারী এসে রনজিলার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারীদের হেঁচকা টানে অটোরিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। অটোরিকশা থেকে নিচে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রনজিলা। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামী আব্দুল মতিন তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।