বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী তরল বর্জ্য উৎপাদনকারী ১৯৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখনো ৫৪টিতে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন করা হয়নি। দূষণ বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়েও এসব নদীর দূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ইতিমধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ইটিপি ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়ে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হলেও আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের লিখিত জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এসব তথ্য জানান। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রীর দেয়া তথ্যমতে, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী ইটিপি প্রযোজ্য ১৯৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪২টিতে ইটিপি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৫৪টি প্রতিষ্ঠানে এখনো ইটিপি স্থাপন করা হয়নি।
দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত পরিবেশগত আইন প্রয়োগের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ইটিপি ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কারণে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার দূষণ কমাতে শিল্পকারখানার তরল বর্জ্য নির্গমন বন্ধে ‘শূন্য তরল বর্জ্য নির্গমন পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় নদী দু’টির তীরবর্তী ৪৬টি প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
এ ছাড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য পরিশোধনাগার কার্যকরভাবে চলছে কিনা, তা নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনতে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৪টি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নদী দু’টির দূষণের সার্বিক অবস্থা নিরূপণে ‘নদীর স্বাস্থ্য মূল্যায়ন’ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নদীর পানির গুণমানসহ দূষণের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য অনলাইন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
সংসদে দেয়া জবাবে পরিবেশমন্ত্রী জানান, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধ, দখলমুক্তকরণ এবং নাব্যতা পুনরুদ্ধার করে নৌপথগুলো পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে গত ৬ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও হয়েছে। কমিটিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয়, অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেবে।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা ওয়াসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।
বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পানি ঢাকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকায় নদী দু’টির দূষণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস প্রশ্নটি উত্থাপন করেন। এর জবাবে সরকার দূষণ নিয়ন্ত্রণে চলমান এসব উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরে।
