ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িতদের বিচার এবং ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার প্রতিবাদে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় স্থানীয় ক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ ঝাড়ু ও জুতা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত বৃদ্ধ সানোয়ার হোসেন, আপসের ঘটনায় জড়িত সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও বিচার দাবি করেন। পরে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। শনিবার বিকালে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের রবীন্দ্র স্মরণী বাইপাস এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে ওই এলাকার ৬ বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।
এ ঘটনায় সানোয়ার হোসেন নামে এক বৃদ্ধ জড়িত বলে অভিযোগ করেন তারা। ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও থানায় মামলা না করে একটি মহল ভুক্তভোগী পরিবারকে অর্থের প্রলোভন দিয়ে আপস-মীমাংসা করে। এ ঘটনায় সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের দাবি, টাকা দিয়ে তিনি ভুক্তভোগী শিশুর বাবাকে মিডিয়া ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে ফোন করে ঘটনা জানাতে নিষেধ করেছেন। এর আগেও এই বিএনপি নেত্রীর বাজারে যুবককে মারধর ও সুবিধা না পেলে বিভিন্ন কৌশলে ফাঁসিয়ে দেয়া, এমন বিভিন্ন মেয়ে ঘটিত ঘটনা ধামাচাপা ও আপস করার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও ঘটনা তুলে ধরে পোস্ট দেন স্থানীয়রা। স্থানীয় লোকজন ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদকারীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকালে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঝাড়ু ও জুতা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযুক্তদের বিচার ও কথিত আপসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। পরে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে ভুক্তভোগী শিশুর দাদা বলেন, সুলতানা রাজিয়া দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বলছেন, আমি দূরে আছি। আমি বাসায় আসবো। মামলা হবে না, নাকি আপস করবে এটা উনি দেখবেন। স্থানীয় মানিক তালুকদার বলেন, এত বড় ঘটনা কিন্তু গোপনে আপস করা হয়েছে। সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জড়িত বলে জানান তিনি। তবে আপসের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে জানাতে চাইলে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়া জানান, তিনি আপসের ঘটনায় জড়িত নন।
তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় রয়েছেন। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইছুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধর্ষণের ব্যাপারে থানায় কেউ অভিয়োগ করেনি। আমরা মেয়ের বাবার কাছ থেকে অভিযোগ নেয়ার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মেয়ের বাবা ঘটনার আপস-মীমাংসা হয়ে গেছে বলে একটি আপসনামা থানায় দিয়ে গেছেন। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায় সে বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
