শিক্ষক রনজিলা পারভীন চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন। রাতে বগুড়া থেকে রওনা হয়ে ভোরে গাবতলী টার্মিনালে নামেন। সেখান থেকে রিকশায় করে ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে যাচ্ছিলেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার সামনের রাস্তায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তিনি। মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারী দলের একজন রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়। নিজের ব্যাগে থাকা চিকিৎসার খরচসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকায় তিনি তা আঁকড়ে ধরেছিলেন। ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে তিনি রিকশা থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয় রাস্তা। পথচারীদের সহায়তায় তাকে নেয়া হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রনজিলাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিক্ষক রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন।
নিহতের স্বামীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রিকশাটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের শান্ত সড়ক ধরে এগিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী হঠাৎ থাবা বসায় রনজিলা পারভীনের ব্যাগে।
ছিনতাইকারীদের নিষ্ঠুর টানে ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে সোজা পাকা রাস্তায় আছড়ে পড়েন তিনি। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে রক্তে ভেসে যায় পথ। রক্তাক্ত স্ত্রীকে নিয়ে দিশাহারা স্বামী ছোটেন নিকটস্থ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। কর্তব্যে থাকা চিকিৎসক জানিয়ে দেন, পরম মমতায় শিশুদের শিক্ষা দেয়া সেই হাত, সেই মানুষটি আর নেই।
নিহতের বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, চোখের চিকিৎসার জন্য রনজিলা পারভীন ও তার স্বামী আব্দুল মতিন গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার বাসে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছে তারা রিকশায় করে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি রনজিলা পারভীনের হাতে থাকা ব্যাগ টান দিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জাহিদুল ইসলাম জানান, তার ছোট বোন বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকায় বসবাস করতেন। তার স্বামী আব্দুল মতিন ব্যবসা করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান দুঃখজনক এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
ওদিকে শিক্ষিকা রনজিলার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার বিদ্যালয়, পরিবার এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
গাবতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রনজিলা পারভীন ১৯৮৮ সালের জানুয়ারি মাসে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেয়ে বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।
