মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজার সংলগ্ন ফটকি নদীর উপর সেতু নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। ১৬ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দে নির্মিত সেতুটির এক পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি কোনো কাজে আসছে না। অপর দিকে পাশের পুরনো সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন দুই উপজেলার বাসিন্দারা।
সম্প্রতি সরজমিন দেখা গেছে, সেতুর মূল অবকাঠামো এবং উত্তর পাশের (মাগুরা অংশ) সংযোগ সড়কের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। তবে দক্ষিণ পাশের (আড়পাড়া বাজার অংশ) জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ। ফলে একদিকে সেতুটি অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে, অন্যদিকে পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই প্রতিনিয়ত জেলা ও দূরপাল্লার হাজার হাজার যানবাহন বিপজ্জনকভাবে চলাচল করছে।
ফটকি নদীর উপর ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দে সেতু নির্মাণকাজ শেষ দুই বছর আগে। জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় এক পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ আটকে আছে।
জানা গেছে, ২০২২ সালের মার্চে ফটকি নদীর উপর এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতুসহ মাগুরা সদর অংশের সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে। কিন্তু শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজার অংশের জমি এখনো অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেতুর এই অংশের ২৩৫ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। অথচ এই ব্যস্ততম সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মাগুরা-যশোর এবং ঢাকা-খুলনাগামী অসংখ্য দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ শত শত ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল করছে।
অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। সেতুর দক্ষিণ পাশে আড়পাড়া বাজারে মুদি দোকানদার অলোক রায় বলেন, ‘আমার ২ শতাংশ জমি সেতুর সংযোগ সড়কের মধ্যে পড়ছে। সেতু নির্মাণের জন্য যদি অধিগ্রহণ করে সরকার, তাহলে ন্যায্যমূল্য পেলে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না।’
জানা গেছে, সেতুর মূল অংশের কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। তবে স্থানীয় প্রশাসন আড়পাড়া অংশের জমি অধিগ্রহণ করে বুঝিয়ে না দেয়ায় সংযোগ সড়কের কোনো কাজ হয়নি। সওজ বিভাগ মাগুরার নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ বলেন, সেতুর মূল অবকাঠামো ও মাগুরা অংশের সংযোগ সড়ক ইতিমধ্যে প্রস্তুত। আড়পাড়া অংশের জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ শেষ করে সেতুটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
