সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই পলাতক। বেশির ভাগই ভারতে। আবার অনেকেই বৃটেনে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তারা যে যেভাবে পেরেছেন দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। মামলার হুলিয়া থাকায় তারা অনেকেই ফিরতে পারছেন না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই নেতাকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে ওঠে। একজন হচ্ছে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পিপি। সিলেটের আলোচিত রাজনীতিবিদ তিনি। অন্যজন হচ্ছেন সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি। মিসবাহ সিরাজ বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তিনি সিলেটে আত্মগোপনে ছিলেন।
কোথায় ছিলেন কেউ জানতো না। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মিলে তার খোঁজ। নিজ বাসা ফাজিলচিস্ত এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় সাগরদিঘীরপাড় এলাকায়। সেখানে একটি ঘরে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। আদায় করা হয় মুক্তিপণ। এ ঘটনায় মিসবাহ সিরাজ চুপ ছিলেন। মুক্তি পেয়ে ফের চলে যান আত্মগোপনে। তিনি কোথায় আছেন পরিবার ছাড়া কেউ জানে না। ঘটনা গত সপ্তাহের। রাতে খবর রটে কানাইঘাটের আলোচিত ডোনা সীমান্তে জনতার হাতে আটক হয়েছেন মিসবাহ সিরাজ। এআই দিয়ে ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাড়া হয়। এতেই তোলপাড়। মিসবাহ সিরাজকে নিয়ে খোঁজখবর নেয়া শুরু হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এই গুঞ্জনের পর জানা গেল, মিসবাহ সিরাজ লন্ডনে আছেন। ভালো আছেন। তিনি দেশ থেকে গোপনে চলতি বছরের প্রথম দিকে লন্ডনে পাড়ি জমান। গুঞ্জন ওঠায় মিসবাহ সিরাজ নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি দেশে না, লন্ডনে অবস্থান করছেন। ভালো আছেন বলে জানান। একাধিক গণমাধ্যমে মিসবাহ তার অবস্থানের বিষয়টি খোলাসা করেছেন।
মিসবাহর পর আলোচনায় আসেন সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি। তিনি অভ্যুত্থানের পর পরই সিলেট সীমান্ত দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভারতে পাড়ি জমান। প্রথমদিকে মেঘালয়ের রাজধানী শিলং অবস্থান করলেও প্রায় দেড় বছর ধরে কলকাতাতেই অবস্থান করছেন। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে একসঙ্গেই তিনি বসবাস করছেন। মাসখানেক আগে আলম খান মুক্তির স্ত্রী, সন্তান নেপাল ভ্রমণে যান। ভারতে অবস্থান করা মুক্তিও সেখানে যান। তার স্ত্রী, সন্তানদের সঙ্গে এয়ারপোর্টের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। হিমালয়ের বরফগলা ঢলে নেপাল এখন বিপর্যস্ত। বহু পর্যটক মারা গেছেন, হাজারেরও বেশি নিখোঁজ। শুক্রবার সকাল থেকে মুক্তিকে নিয়ে সিলেটের নেটদুনিয়া সরব হয়ে ওঠে। দাবি করা হয়, নেপালে হঠাৎ নেমে আসা ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় আলম খান মুক্তি পরিবারসহ নিখোঁজ রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে মুক্তিকে নিয়ে সিলেট আওয়ামী পরিবারে দুশ্চিন্তা বাড়ে। তবে বিষয়টিকে গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন আলম খান মুক্তি নিজেই।
শুক্রবারই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান দেন- তিনি যেখানেই আছেন, নিরাপদে ও ভালো আছেন। শুক্রবার এ নিয়ে তিনি কথা বলেন সিলেটের একাধিক গণমাধ্যমের সঙ্গে। মুক্তি জানান, তিনি নিরাপদেই আছেন। তার পরিবারও দেশে রয়েছে। একটি গোষ্ঠী কিছু দিন পর পর তাকে দিয়ে অপপ্রচার চালায় বলে জানান বলে দাবি করেন। বলেন, ওই গোষ্ঠী নানা গুজব প্রচার করে। এই গোষ্ঠীই তিনি নিখোঁজ হওয়ার তথ্য ছড়িয়েছে বলে দাবি করেন। মুক্তি জানান, কিছুদিন আগে তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে নেপাল গিয়েছিলেন। তার পরিবারও সেখানে এসেছিল। দীর্ঘদিন তাকে না দেখতে পেরে মেয়ে খুব কান্না করছিল। তাই সেখানে গিয়ে দেখা করেন। তবে নেপালের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই তারা ফিরে এসেছেন বলে জানান। এখন তিনি ভারত অবস্থান করছেন। এদিকে, এর আগেও মুক্তিকে ঘিরে নানা গুঞ্জন দেখা দিয়েছিল সিলেটে। ভারতে তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করছেন বলে অপপ্রচার রটানো হয়। ওই সময় একইভাবে মুক্তি তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া গুঞ্জনের জবাব দেন এবং জল্পনার ইতি ঘটান।
