গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমি দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, মাদক কারবার, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং কৃষিজমি অবৈধভাবে বালু দিয়ে ভরাটসহ বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রবাসী আলমগীর কবিরের ভাই ইকবাল আহমেদ, ভুক্তভোগী বায়েজিদ হাসান শিবলীর ভাই মো. মুজাহিদুল ইসলাম এবং আলমগীর কবিরের ভাতিজা মো. জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা বক্তব্য দেন। মানববন্ধনে বক্তারা কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলুকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, জমি দখল, চাঁদা দাবি, হামলা, মাদক কারবার, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাটসহ নানা কর্মকাণ্ডে বাবলু ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের প্রভাব রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালেকুজ্জামান বাবলুর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেল রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে হাট, জমি, বালু ভরাট ও নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাঁদের সঙ্গে জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ আহমেদ ও লতিফ মোল্লাসহ আরও কয়েকজনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলা হয়। বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্থানীয় প্রভাবের কারণে অনেকে তাঁদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। প্রতিবাদ বা অভিযোগ করলে মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খালেকুজ্জামান বাবলু ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের কথিত কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রীসহ যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীরা যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা হয়রানি ছাড়াই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন, সে জন্য তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
