মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের টেলিপ্রম্পটার অপারেটর হিসেবে কাজ করা গ্যাব্রিয়েল পেরেজকে অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেটে অবৈধভাবে লেনদেনের দায়ে ১ লাখ ৭২ হাজার ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশন (সিএফটিসি)।
সিএফটিসি জানিয়েছে, পেরেজ তাঁর চাকরির মাধ্যমে পাওয়া ‘গুরুত্বপূর্ণ ও অপ্রকাশ্য তথ্য’ ব্যবহার করে একটি প্রেডিকশন মার্কেটে লেনদেন করেন। এসব তথ্য ছিল ট্রাম্পের আসন্ন বক্তৃতায় তিনি কী ধরনের শব্দ বা বাক্যাংশ ব্যবহার করতে পারেন, তা নিয়ে।
পেরেজকে লেনদেন থেকে অর্জিত ১ লাখ ৭ হাজার ৫৩৯ দশমিক ০২ ডলার মুনাফা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ৬৫ হাজার ডলার দেওয়ানি জরিমানাও দিতে হবে। একই সঙ্গে তিন বছরের জন্য প্রেডিকশন মার্কেটে লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
পেরেজ কালশি নামের একটি প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব লেনদেন করেছিলেন। মামলাটির তদন্তে কালশি সহযোগিতা করেছে বলে জানিয়েছে সিএফটিসি।
কালশির প্রধান আইন কর্মকর্তা ববি ডিনল্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘কালশির নজরদারি ব্যবস্থার তদন্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ লেনদেনে জড়িত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। আজ সিএফটিসি এবং আমাদের এক্সচেঞ্জ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যে-ই হোন না কেন, আমাদের নিয়ম বা ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
শুক্রবার রাতে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসে ইমেইল করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পেরেজের সঙ্গেও মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সিএফটিসি ঘটনাটিকে ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি জানায়, পেরেজ ‘প্রেসিডেনশিয়াল মেনশন মার্কেট কনট্রাক্টস’-এ লেনদেন করেছিলেন। এসব কনট্রাক্টে নির্ধারণ করা হয়, প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তৃতায় নির্দিষ্ট কোনো শব্দ বা বাক্যাংশ ব্যবহার করবেন কি না।
পেরেজ প্রেসিডেন্টের একজন কারিগরি সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি ট্রাম্পের টেলিপ্রম্পটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
শুক্রবার পেরেজের বিরুদ্ধে জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তির ঘোষণা দেওয়ার সময় তাঁর ‘অসাধারণ সহযোগিতার’ বিষয়টি উল্লেখ করে সিএফটিসি।
এর আগে জুলাইয়ে তৎকালীন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পেরেজের অনলাইন লেনদেনকে নৈতিকতার লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘গভীরভাবে দুঃখজনক এবং সত্যিকার অর্থেই লজ্জাজনক’ বলেও মন্তব্য করেন।
জুলাইয়ে পেরেজকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। সে সময় লেভিট জানিয়েছিলেন, ‘এই ব্যক্তি আর এখানে থাকবেন না।’
