গ্যাস সরবরাহ কমেছে, বেড়েছে লোডশেডিং

সহযোগীদের খবর

গ্যাস সরবরাহ কমেছে, বেড়েছে লোডশেডিং

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘গ্যাস সরবরাহ কমেছে, বেড়েছে লোডশেডিং’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এলএনজি কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দেশে গ্যাস সরবরাহ আবার কমতে শুরু করেছে। গত পাঁচ দিনে আমদানি করা এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় সাত কোটি ঘনফুট। এতে আগে থেকেই চলা গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি।

শিল্পের সংকট সামলাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেল ও কয়লার ঘাটতি যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছে। বেড়েছে গরম। ফল হিসেবে গত কয়েক দিনে লোডশেডিং বেড়েই চলছে।

মূলত এক মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি লোডশেডিংও চলছে। বৃষ্টিতে বিদ্যুতের চাহিদা কমলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়, আবার গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংও বেড়ে যায়। এতদিন মূলত ঢাকার বাইরের গ্রাহকদের ওপরই এর চাপ ছিল। তবে ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। রাজধানীর কোনো এলাকায় দিনে একবার, সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা লোডশেডিং করার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট দুপুর ২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৮ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬১ কোটি ৬০ লাখ এবং এলএনজি ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। পরদিন ২৬ আগস্ট দুপুর ১২টায় সরবরাহ কিছুটা বেড়ে মোট ২৪১ কোটি এবং এলএনজি ৭৯ কোটি ঘনফুটে ওঠে। এর পর থেকেই আবার কমতে থাকে সরবরাহ। ২৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে ২৩৫ কোটি ৪০ লাখ এবং এলএনজি ৭৩ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে।

২৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় মোট গ্যাস সরবরাহ আরও কমে দাঁড়ায় ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ ছিল ১৬১ কোটি ৬০ লাখ এবং এলএনজি ৭২ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ, ২৬ আগস্টের চেয়ে দুই দিনে মোট সরবরাহ কমেছে সাত কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ কমেছে ছয় কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা সরকারি হিসাবে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। খাত-সংশ্লিষ্টদের হিসাবে প্রকৃত চাহিদা ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ কোটি ঘনফুট।

গ্যাস সরবরাহ আরও কমতে পারে

গ্যাস সরবরাহ কমার মধ্যেই সামনে প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গো পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উচ্চমূল্য ও সরবরাহকারীদের কম সাড়ায় চাহিদা অনুযায়ী কার্গো সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে আগামী কয়েক দিনের দুটি কার্গোর সরবরাহ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে বর্তমান সরবরাহ ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এসব কার্গো সময়মতো না এলে গ্যাস সরবরাহ আরও কমে সংকট তীব্র হতে পারে।

মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেটের দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ করা হয়। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। ঠিক হওয়ার পর কার্গো সংকটে টার্মিনালটি কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর ২২ আগস্ট একটি কার্গো আসায় পুনরায় সরবরাহ শুরু হয়।

আগস্টে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনার উদ্যোগ নেওয়া কয়েকটি কার্গো সময়মতো না আসায় গ্যাস সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হয়। গতকাল শুক্রবার এবং আগামী সোমবার দুটি কার্গো আসার শিডিউল ছিল; কিন্তু সেগুলো আসছে না। দরপত্রের মাধ্যমে কার্গো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও উচ্চমূল্য এবং সরবরাহকারীদের কম সাড়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে গ্যাস সরবরাহ আরও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্পে উৎপাদন কমছে

গ্যাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শিল্পে। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে যায়। কোথাও দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে যাচ্ছে, আবার কোথাও কয়েক ঘণ্টার বেশি কারখানা চালানো যাচ্ছে না।

গাজীপুরের মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলে স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১৭০ টন সুতা উৎপাদন হলেও গ্যাস-সংকটে তা নেমে এসেছে প্রায় ৩০ শতাংশে। এক মাসে কারখানাটির ক্ষতি হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। নরসিংদীর একটি বস্ত্রকল গ্যাসের অভাবে টানা ২২ দিন বন্ধ ছিল। নারায়ণগঞ্জের একটি ডাইং কারখানায় গত ১৮ আগস্ট থেকে গ্যাস না থাকায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬৬০টি বস্ত্রকল জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তীব্র গ্যাস-সংকটে ভুগছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০০ পোশাক কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শিল্পমালিকদের শঙ্কা, দীর্ঘদিন গ্যাসের চাপ কম থাকলে উৎপাদন ও রপ্তানি দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতা হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হবে।

সিএনজিতে ভোগান্তি

গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনেও স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। কোথাও গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে। গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

বাড়ছে লোডশেডিং

শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও তা কমিয়ে ৭৫ কোটি ঘনফুট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস শিল্পে দেওয়ার কথা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাস কম পাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের পাশাপাশি তেল ও কয়লার সংকটও চাপ বাড়াচ্ছে। ঘাটতি সামাল দিতে তেলচালিত কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা হলেও জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বল্পতায় সব কেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতি ছিল।

কয়লাভিত্তিক আট কেন্দ্রের সক্ষমতা প্রায় সাত হাজার মেগাওয়াট হলেও বৃহস্পতিবার উৎপাদন হয়েছে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কম। পায়রার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে, মাতারবাড়ীর একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে এবং বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিট ত্রুটির কারণে বন্ধ। কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আদানির কেন্দ্রও ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করছে।

বৃহস্পতিবার গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সংকটে ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে লোডশেডিংয়ের ধারাবাহিকতাও ঊর্ধ্বমুখী। ২৪ আগস্ট দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল এক হাজার ১৯৩ মেগাওয়াট। ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় তা বেড়ে দুই হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট হয়। ২৬ আগস্ট রাত ১২টায় ঘাটতি ছিল দুই হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে। রাতেও ঘাটতি ছিল তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। রাত ১টায় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ১৭১ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট; ঘাটতি ছিল তিন হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় তিন হাজার ৯০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। গতকাল ভোর ৪টায় দুই হাজার ৯১৫ মেগাওয়াট এবং সকাল ৬টায়ও লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৬৩৬ মেগাওয়াট। গতকাল বিকেল ৩টায় লোডশেডিং ছিল এক হাজার ৪৮৩ মেগাওয়াট।

প্রথম আলো

‘সেন্ট মার্টিনে আবার রিসোর্ট নির্মাণ’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে নতুন করে গড়ে উঠছে অন্তত ১২টি রিসোর্ট–কটেজ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এসব রিসোর্ট–কটেজের নির্মাণকাজ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধি ও দ্বীপের বাসিন্দারা। অথচ এ দ্বীপে সব ধরনের স্থাপনা তৈরি নিষিদ্ধ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে দ্বীপে নতুন করে ৭০টির বেশি রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব রিসোর্টের বিরুদ্ধে মামলা–জরিমানাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রশাসনের পদক্ষেপে তখন নতুন রিসোর্ট–কটেজ নির্মাণ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যটন মৌসুম শেষ হওয়ার পর বৈরী আবহাওয়ার সময় যখন টেকনাফের সঙ্গে দ্বীপের নৌ যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকে, তখনই বাড়ে নির্মাণকাজ। কেয়াবন ও নারকেলগাছ কেটে নতুন স্থাপনা নির্মাণ, সৈকত থেকে বালু ও চুনাপাথর তুলে ব্যবহার এবং অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। দুই বছর আগে পর্যটক সীমিত করার পর দ্বীপের প্রকৃতিতে কিছুটা প্রাণও ফিরেছিল। কিন্তু একের পর এক স্থাপনা নির্মাণের কারণে সেই ইতিবাচক পরিবর্তন আবার হুমকির মুখে পড়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দশকে সেন্ট মার্টিনে ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে নির্মিত এবং বর্তমানে চলমান স্থাপনাগুলো যোগ হলে সংখ্যাটি ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে। এদিকে সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। তবে অবৈধ নির্মাণ চলতে থাকলে সেই প্রকল্প কতটা কার্যকর ফল দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

৮ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সেন্ট মার্টিন পরিদর্শন করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অবৈধ রিসোর্ট-কটেজ নির্মাণ বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

গতকাল রাতে যোগাযোগ করা হলে প্রতিমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব অপরিকল্পিত হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট সেন্ট মার্টিনের পরিবেশের জন্য হুমকি। আমি পরিদর্শনে গিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্মাণসামগ্রী দ্বীপে নেওয়ার ওপর কড়াকড়ি থাকলেও নানা কায়দায় পৌঁছে যাচ্ছে ইট, বালু, রড ও সিমেন্ট। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে টেকনাফ থেকে নেওয়া নির্মাণসামগ্রীর একটি অংশ হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণে ব্যবহৃত বা বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশির ভাগ রিসোর্ট-কটেজের মালিক কক্সবাজারের বাইরের জেলার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও আছেন। আর দ্বীপে নির্মাণকাজ তদারকি, শ্রমিক সরবরাহ ও নির্মাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত আছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ এবং দেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একসময় দ্বীপটিতে প্রায় ১ হাজার ৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ছিল। প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, শৈবাল, শামুক-ঝিনুক ও নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাস ছিল এটি। গত দুই দশকে প্লাস্টিক দূষণ ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে অনেক প্রজাতি হারিয়ে গেছে।

এখন পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রসৈকত ও সংলগ্ন বালিয়াড়িতে নতুন করে কেয়াবন সৃজন ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এ জন্য কেয়াগাছের ফল সংগ্রহ করে চারা তৈরি করা হচ্ছে। কেয়াবন প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত থেকে দ্বীপকে রক্ষার পাশাপাশি বালু ধরে রাখতে সহায়তা করে। প্রকল্পের আওতায় প্রবাল, সামুদ্রিক শৈবাল, লাল কাঁকড়া ও পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল রক্ষা, প্যারাবন সৃজন এবং সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরির কাজও চলছে। কাছিমের ডিম সংগ্রহ করে বাচ্চা ফুটিয়ে সমুদ্রে অবমুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে।

রিসোর্ট-কটেজ নির্মাণের নেপথ্যে রাজনৈতিক নেতারা

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। এর চারদিকে ছড়িয়ে থাকা চুনাপাথর, শামুক–ঝিনুক ও প্রবাল-শৈবাল আহরণ বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ করা হলেও অবৈধ নির্মাণ বন্ধ হয়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করে অন্তর্বর্তী সরকার। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি—এই তিন মাস অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিদিন দুই হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে যাওয়ার সুযোগ পান। বছরের বাকি সময় দ্বীপটি প্রায় পর্যটকশূন্য থাকে। গত দুই মৌসুমে ২ লাখ ৩৭ হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করেছেন, যা তিন বছর আগের তুলনায় অর্ধেকের কম। এতে পরিবেশের কিছুটা উন্নতি হলেও কেয়াবন রক্ষা করা যাচ্ছে না। এখন চলছে নতুন করে রিসোর্ট-কটেজ নির্মাণ।

প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক ৮ ও ৯ আগস্ট পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে সেন্ট মার্টিনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। উত্তর পাড়ায় একটি, দক্ষিণ পাড়ায় দুটি, পূর্ব পাড়ায় দুটি, গলাচিপায় চারটি ও কোনারপাড়ায় তিনটি নতুন রিসোর্ট-কটেজ নির্মাণের দৃশ্য দেখা গেছে। কোথাও ভবনের ছাদ ঢালাই চলছে, কোথাও পিলার তোলা হচ্ছে, আবার কোথাও টিন ও ইটের দেয়াল দিয়ে তৈরি হচ্ছে একের পর এক কটেজ। এসব স্থাপনা নির্মাণের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় সৈকতের বালু ও মূল্যবান চুনাপাথর। উজাড় করা হচ্ছে কেয়াবন। এতে দ্বীপের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের গলাচিপা এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় ‘ মেরিন পার্ক’। সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের উত্তর পাশে টিনের ঘেরা দিয়ে ভেতরে চলছে ‘স্যান্ডি বিচ রিসোর্ট’–এর নির্মাণকাজ। এক পাশে দ্বিতল ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে, অন্য পাশে ইট-সিমেন্ট ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ১০টি কটেজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্রমিক বলেন, এই রিসোর্টের মালিক ঢাকার প্রভাবশালী নেতা। তাঁর পক্ষে নির্মাণকাজ তদারক করেন সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রহমান ও তাঁর ভাতিজা বিএনপি কর্মী মো. আয়াছ। রিসোর্ট তৈরির ইট, বালু ও সিমেন্ট সরবরাহ দিচ্ছেন সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াবুল হক।

মো. আয়াছ প্রথম আলোকে বলেন, এই রিসোর্টের মালিক ইমতিয়াজ নামে ঢাকার এক ব্যক্তি। তাঁরা ইমতিয়াজের কাজ দেখাশোনা করছেন এবং শ্রমিক সরবরাহ করেন। নির্মাণকাজে ইট, বালু, সিমেন্ট ও রড সরবরাহ করছেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল, ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলামসহ কয়েকজন। ইট–বালু, সিমেন্ট–রড কোথা থেকে আনা হয়, তা তিনি জানেন না।

আয়াছ জানান, জিয়াবুল হক মেরিন পার্কের দক্ষিণ দিকে আরেকটি রিসোর্ট নির্মাণ করছেন। তাঁর কাছে জেনে মেরিন পার্ক থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে গিয়ে রাস্তার পাশে পাওয়া যায় নির্মাণাধীন রিসোর্টটি। রাস্তার পাশে তৈরি করা হয়েছে লাল টিন ও ইটের দেয়াল দিয়ে চারটি কটেজ। পাশে আরও ছয়টি কটেজ নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। ৩০-৩৫ জন শ্রমিক পাশের সৈকত থেকে বালু তুলে বস্তায় ভরে জমি ভরাট করছেন।

নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকেরা জানান, এই রিসোর্টের মালিক ফরিদপুরের একজন সাবেক সংসদ সদস্য। তবে তাঁর নাম তাঁরা জানেন না। তাঁর পক্ষে নির্মাণকাজের দেখভাল করছেন যুবদল নেতা জিয়াবুল হক ও তাঁর বড় ভাই ইসহাক মাহমুদ চৌধুরী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবদুর রহমান ও জিয়াবুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। বাড়িতে গিয়েও তাঁদের পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা সাড়া দেননি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সেন্ট মার্টিন কার্যালয়ের অধীন চলমান প্রকল্প দেখাশোনা করেন পরিবেশকর্মী আবদুল আজিজ। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় কর্মকর্তারা সেখানে যেতে পারছেন না।

দ্বীপের দক্ষিণাংশে দিয়ারমাথা এলাকায় সবুজ টিনের ঘেরা দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে আরেকটি কটেজ। পরিচিতি ফলক না থাকলেও এলাকার মানুষ এটিকে ‘ইউএনও কটেজ’ নামে চেনেন। টেকনাফের সাবেক একজন ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) এই জমি কিনেছেন বলে এলাকায় আলোচনা আছে। তবে এই ইউএনওর নাম জানাতে পারেননি শ্রমিকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই কটেজের ১৬টি পিলার নির্মাণ করা হচ্ছে। সৈকত থেকে বালু ও চুনাপাথর তুলে এনে সেখানে মজুত করা হচ্ছে। এই কটেজ নির্মাণের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন দ্বীপের প্রভাবশালী ব্যক্তি আবদুল শুক্কুর। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে বাদ দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় যুবদল নেতা জিয়াবুল হককে। শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট–বালু, সিমেন্ট-রড জিয়াবুল নিজেই কিনে আনেন।

দ্বীপের মধ্যভাগে নির্মাণ হচ্ছে আরেকটি রিসোর্ট ‘দ্য লাস্ট ওয়েভ’। জোয়ারের পানিতে রিসোর্টের পশ্চিম পাশের জমি বিলীন হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকেরা সৈকত খুঁড়ে বালু তুলে বস্তায় ভরে রিসোর্টের প্রতিরক্ষা বাঁধ দিচ্ছেন। ভেতরে নির্মাণ হচ্ছে সাতটি কটেজ। একজন শ্রমিক জানান, আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হবে। এর আগেই নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

সেন্ট মার্টিনের পশ্চিম সৈকতে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সমুদ্র বিলাসের পেছনে ‘সিসিটিভি রিসোর্ট’। তার কিছুটা উত্তরে কয়েকটি নারকেলগাছ কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে আরেকটি রিসোর্ট। ‘সান অ্যান্ড বিচ রিসোর্ট’ নামের ভবনটির একতলার ছাদ ঢালাই হয়েছে, দ্বিতীয় তলার পিলার তোলার কাজ চলছে। এই রিসোর্টের মালিক ঢাকার এক ব্যক্তি। এটির নির্মাণকাজ তদারক করছেন আরেক বিএনপি নেতা আবদুর রহমান ও কর্মী মো. আয়াছ। আবদুর রহমান বলেন, সবাই যেভাবে ম্যানেজ করে রিসোর্ট বানাচ্ছেন, তাঁরাও সেভাবে করছেন। তবে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের যুক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেননি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াবুল হক, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাকিলসহ বিএনপির কয়েকজন নেতার ছত্রচ্ছায়ায় ঢাকার প্রভাবশালী লোকজন এই দ্বীপে রিসোর্ট-কটেজগুলো নির্মাণ করছেন। বিএনপি ও যুবদল নেতারা নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করছেন। এমন কাজে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আর জমি ভরাট ও পিলার নির্মাণে সৈকতের বালু ও চুনাপাথর ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতা দ্বীপের স্থাপনা নির্মাণকাজে সহযোগিতা করছেন। উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আনা নির্মাণসামগ্রী রিসোর্ট-কটেজ নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় রিসোর্ট-কটেজ নির্মাণ করা হলেও তার জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয় না বলে জানান সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ফয়েজুল ইসলাম। তিনি বলেন, যেসব কটেজ-রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে সব কটি অবৈধ। নির্মাণের পর মালিকেরা ব্যবসা পরিচালনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আসেন, কিন্তু তিনি দিচ্ছেন না।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ডিসেম্বরের মধ্যে নাশকতার ছক!’ খবরে বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে নিষ্ক্রিয় দেখা গেলেও ভেতরে-ভেতরে অপতৎপরতা চালাচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। ভারতে অবস্থানরত দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ ঘোষণা কেন্দ্র করে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানও ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, নিজেদের শক্তির জানান দিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করেছে। এগুলোর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশ সদর সপ্তর থেকে এ বিষয়ে সব ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠ পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পুরো টিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফাঁড়ির ইনচার্জসহ এই টিমের সদস্যদের সংখ্যা ২৭ জন। বিশ্লেষক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে এত দ্রুত দেশে ফিরে আসা এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য মোটেও সহজ হবে না। তাদের মতে, এটি মূলত কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। এদিকে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেক টাকা আছে। টাকা খরচ করে তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনা দেশের মানুষের মনে এখনো টাটকা। নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর চরম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি কোনো সহানুভূতি বা সমর্থন নেই। তিনি বলেন, তারপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে। চরমপন্থি যোগাযোগ বা দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা যেন সফল না হতে পারে, সেজন্য আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্টবিরোধী ঐক্য জোরদার করতে হবে।

জানা যায়, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড (সংকেতায়িত) অ্যাপ ব্যবহার করে তারা দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।

পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজি যুগান্তরকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল, এসআই ও এএসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা রয়ে গেছেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে বিদেশে পলাতক সাবেক সরকারের শীর্ষ কিছু কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে আলোচনা আছে।

কালের কণ্ঠ

‘বাড়ছে মৃত্যু, কাঁদছে নেপাল’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ‘ওরা ভাবছে ওদের মা কোথাও আটকা পড়ে আছে এবং ঠিকই ফিরে আসবে...এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই যে খোঁজ নেব। আমি ওদের বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি, দুঃসংবাদ শোনার জন্য তৈরি থেকো।’ কথাগুলো ৫০ বছর বয়সী বিক্রম কোলাগাটলার। তিনি হন্যে হয়ে হদিস করছেন স্ত্রী গীতা রেড্ডির (৪৩)। নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে তিনি নিখোঁজ। বেঁচে আছেন কি না, এখনো নিশ্চিত নন বিক্রম।

তিনি থাকেন লন্ডনে। বিক্রম জানান, স্ত্রী গীতা গত শনিবার এক তীর্থযাত্রায় যান। ৪ সেপ্টেম্বর তাঁর ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই ঘটে গেল বিপর্যয়।

এখন ১২ ও ১৪ বছরের দুই মেয়ে নিয়ে তিনি গীতার ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয় ব্রিটিশ কনসুলেটে যোগাযোগ করে লাভ হয়নি। তারাও নেপালি কর্তৃপক্ষের তথ্যের আশায় রয়েছে।

ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যার ঘটনায় নেপালে এখন এমন অপেক্ষারত স্বজনের অভাব নেই। তারা প্রবল উৎকণ্ঠা নিয়ে অশ্রুসজল চোখে তাকিয়ে আছে প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষায়।

গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৫৪৭ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নেপালের পুলিশ। আহত প্রায় দেড় হাজার। নেপাল ও চীনের তিব্বত মিলিয়ে এখনো প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিখোঁজ। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ হাজারের বেশি। জাতিসংঘের জরুরি শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, বন্যায় ১৭ হাজারের বেশি শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

মরদেহ শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জিং: বুধবারের আকস্মিক বন্যায় স্রোতের তোড়ে অনেক মরদেহ ভেসে দূরের জেলাগুলোতে চলে গেছে। ফলে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাঠমাণ্ডু থেকে প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার দক্ষিণে চিতওয়ানে ২২১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কাঠমাণ্ডু থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নওয়ালপরাসি পূর্ব এলাকা থেকে ১৩৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে।

চিতওয়ানের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল বিবিসিকে বলেন, অনেক মরদেহের অবস্থা ভালো নেই। ফলে সেগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় হাসপাতালের মর্গেও আর মরদেহ রাখার জায়গা নেই। এ কারণে মরদেহ রাখার জন্য আপাতত একটি সরকারি ভবন নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ৫৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ।

৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: নেপালে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিনিধিদলের প্রধান ডেভিড ফিশার গতকাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দ্বিতীয় দফা বন্যার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, বুধবারের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তাঁরা এ দুর্যোগ মোকাবেলায় তিন কোটি ১০ ডলার অর্থায়নের জন্য আবেদন করেছেন।

নেপালের তথ্যমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা বিবিসিকে জানান, ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া জেলা। এটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাঠামোগতভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

রাজধানী কাঠমাণ্ডুর উত্তরের এই জেলার পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেখানে যেতে পারিনি, তাই সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ করতে সময় লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সেখান থেকে লোকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে।’

উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা : নেপাল ও চীনে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা গতকাল সাময়িক বিরতির পর আবার নবোদ্যমে শুরু হয়। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি লেক থেকে পানি উপচাতে শুরু করলে দুর্যোগকবলিত এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। এতে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা হয়।

নেপাল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ত্রিশূলীর লেহেন্দেখোলা নদীতে লেক সৃষ্টি হয়ে এতে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমে তা উপচাতে থাকে। এতে আশপাশে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। উদ্ধারকাজ ঘণ্টা তিনেক বন্ধ থাকে। প্রবল বেগে ঢল নামার আশঙ্কায় হিমালয়ের চীনা অংশে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মীরা যানবাহন নিয়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যান। পরে এই ঢল নামার আশঙ্কা কমে এলে আতঙ্কও কমে আসে এবং উদ্ধারকাজ শুরু হয়।

নেপালের হেলিকপ্টারগুলো লাগাতার উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার হচ্ছে এসব হেলিকপ্টারের মাধ্যমে। উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তাদের কাছে আটকে পড়া লোকজনের খোঁজ নিতে লাইন ধরেছে স্বজনরা।

বিবিসি জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে হেলিকপ্টর নিয়ে উদ্ধারকাজে যাওয়া সেনা সদস্যরা ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে টানেলে আটকে পড়া একদল কর্মীকে টেনে বের করছিলেন সেনা সদস্যরা।

নেপালের ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বন্যা ও ভূমিধসের পর অন্তত ১২১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৫ জন ভারতীয় নাগরিক, ১৬ জন চীনা ও ৯ জন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। অন্য তিনজনের নাগরিকত্বের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে কর্তৃপক্ষ জানায়, আরো পাঁচ শতাধিক পর্যটক এখনো নিখোঁজ। নেপালের ট্যুরিস্ট বোর্ড বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দুর্গত মানুষ, আটকে পড়া লোকজন এবং আহতদের উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে।

নেপালের মন্ত্রীরা তাঁদের এক মাসের বেতনের অর্থ দুর্যোগকবলিত ব্যক্তিদের জন্য গঠিত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেবেন। গতকাল সে দেশের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইত্তেফাক

‘পদে পদে লঙ্ঘিত শিশু আইনের প্রয়োগ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদক বহন করছিল একটি শিশু। ১৬ বছরের সেই শিশুটি তখন জনতার হাতে আটক হয়। দেওয়া হয় গণপিটুনি। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে। দায়ের করা হয় শিশুটির বিরুদ্ধে মামলা। কিন্তু শিশুটিকে কে মাদক দিয়েছে, কারা তাকে গণপিটুনি দিল সে বিষয়ে পুলিশ কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম শিশু আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। একই সঙ্গে শিশু আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপর একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বিচারক বলেছেন, শিশুর কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। অথচ সেই শিশুকে প্রহারের ঘটনায় তারা চোখ বন্ধ করে রয়েছেন। একই পুলিশ কর্মকর্তার হাতে আইনের দুই রকম প্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে শিশুটিকে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনায় পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত।

এতে বলা হয়েছে, একটি ১৬ বছরের শিশুকে এভাবে গণপিটুনির শিকার হতে দেওয়া কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করেছে বলে সন্দেহ হলেও তাকে মারধর করার অধিকার কারো নেই। অপরাধের বিচার করবে আদালত, রাস্তার জনতা নয়। এই নীতি একজন প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একটি শিশুর ক্ষেত্রে আরো কঠোরভাবে প্রযোজ্য। আদালত এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে শিশুটিকে মারধরের ঘটনার তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুটিকে মাদক বহনের কাজে ব্যবহারের বিষয়ে শিশু আইনের অধীনে স্বতন্ত্র অপরাধের উপাদান বিদ্যমান আছে কি না, তা সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। আদালত বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা শিশুটিকে মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করেছে তা চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গত ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার তামাকুমুন্ডি লেইন এলাকায় ১৬ বছরের শিশুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে ২১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়। পরদিন শিশুটিকে হাজির করা হয় শিশু আদালতে। শিশুটিকে গ্রেফতার ও আদালতে হাজির করার পূর্ব পর্যন্ত শিশু আইনের যেসব বিধানাবলি পালনের দরকার ছিল তার কোনোটিই কার্যকর করেনি পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে শিশু আদালতের বিচারক বলেছেন, এই মামলায় শিশু আইনের ১৪ ধারার বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালিত হয়নি। প্রবেশন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে মর্মে নথিতে কোনো প্রমাণ নেই। পুলিশ ফরোয়ার্ডিংয়ে শিশুর পিতার নাম ও মোবাইল নম্বর লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু শিশুর পিতা-মাতাকে আদালতে হাজিরার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করা হয়েছে কি না, তার কোনো প্রমাণ নেই। কেন এরা অনুপস্থিত কারণ উল্লেখ করে কোনো প্রতিবেদনও দাখিল করেনি শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা। এ প্রসঙ্গে আদালত বলেছে, এই ব্যত্যয় নিছক পদ্ধতিগত ত্রুটি নয়। একটি শিশু যেন তার পরিবার ও প্রবেশন কর্মকর্তার সহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা ফৌজদারি মামলার বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না হয়, এই আইন তা নিশ্চিত করেছে। কারণ প্রবেশন কর্মকর্তা শিশুর অবস্থা যাচাই করে আদালতকে সহায়তা করেন এবং পরিবার শিশুর পাশে দাঁড়ায়। এই দুই সুরক্ষা থেকে শিশুকে বঞ্চিত করা তার সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থি। এই শিশুটির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বিধান প্রতিপালন না করা শিশু আইনের ১৪ ও ৪৫ ধারার লংঘন।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১ সেপ্টেম্বর ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। দলটির ঘোষিত পাঁচ দিনের কর্মসূচির সমাপনী দিনে অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঠিক একই দিনে (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে বিশাল লংমার্চের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিগত ফ্যাসিবাদের গণহত্যাকারীদের বিচার, ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণের ৬ দফা দাবিতে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে দেশের দুই প্রধান শক্তির এই শোডাউনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

সূত্র মতে, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জ্বালানি সঙ্কট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখাসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখতে চায় বিরোধীরা। তবে নৈরাজ্য ও সঙ্ঘাতের রাজনীতির পরিবর্তে রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালনের কথা জানিয়েছেন বিরোধীজোটের জ্যেষ্ঠ নেতারা। প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার অতীত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে রাজপথ ও সংসদে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক রাজনীতিতে আগ্রহী বিরোধীজোট। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, জনস্বার্থে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সহযোগিতার কথাও বলছেন তারা।

অন্য দিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ও আগামীর অনিশ্চয়তা বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের জন্য এসিড টেস্ট বলে মন্তব্য করছেন। তাদের মতে, জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে ক্ষমতায় আসা এই সরকারের বিরুদ্ধে যখন জুলাই সনদের রায় বাস্তবায়নের দাবিতেই বিরোধী দল রাজপথে নামে, তখন নৈতিকভাবে সরকার কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থানে চলে যায়। সরকারের ভেতর থেকে বলা হচ্ছে সময় প্রয়োজন, কিন্তু রাজপথ সেই সময় দিতে নারাজ। একদিকে জনগণের ঐতিহাসিক রায়ের প্রতিফলন ঘটানোর দায়, অন্যদিকে সরকারের ক্ষমতার স্থিতিশীলতা রক্ষা। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে এখন একটাই আলোচনা, গণভোটের রায় কি শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে কার্যকর হবে, নাকি রাজপথের উত্তাপ নতুন কোনো অনিশ্চিত মোড় ঘুরিয়ে দেবে বাংলাদেশের ইতিহাসের চাকা?

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছি। এখনও অবরোধ, হরতালের মতো কর্মসূচিতে যাইনি। জুলাই সনদ, গণভোট বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত কর্মসূচি দিচ্ছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আমরা থাকব। রাজনীতির বিতর্ক পার্লামেন্টেই থাকবে। নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি ও গঠনমূলক বিরোধিতার মধ্য দিয়েই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে একপ্রকার অচলাবস্থা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের লংমার্চ ইস্যু দেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে চাপে রাখতে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে ওয়াকআউট করেছে বিরোধীরা। সংসদে ওয়াকআউটের পাশাপাশি রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচির প্রস্তুতিও রয়েছে জোটটির। এটি শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর জন-আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিরোধী জোটের সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি এখনই বিল আকারে না আনার সুপারিশ করেছে সংসদের বিশেষ কমিটি। ফলে, এই ২০টি অধ্যাদেশের কার্যকারিতা থাকছে না। ফলে বিরোধী দলের আপত্তিতে সরকারি দলের কর্ণপাত না করা এবং গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একাধিক উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে রাজপথে আন্দোলনের পথ তৈরি হচ্ছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য আমাদের যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করব। রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন জরুরি, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতেই হবে। সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গণভোটের রায় মানতে চাচ্ছে না। আমরা মাঠে আছি। জনগণ দেশে পরিবর্তনের রাজনীতি দেখতে চেয়েছে। তারা আমাদের সাথে আছে।

বণিক বার্তা

‘সরকারের এক কোটি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা চ্যালেঞ্জিং ও ত্রুটিপূর্ণ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার একটি বড় তৈরি পোশাক কারখানায় ২০২১ সালের দিকে কাজ করতেন প্রায় ১৬ হাজার শ্রমিক। বর্তমানে সে সংখ্যা নেমে এসেছে সাড়ে ১৩ হাজারে। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে কারখানাটিতে কর্মী কমেছে অন্তত আড়াই হাজার।

তবে কর্মী কমলেও কমেনি উৎপাদন। বরং উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। একই সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে এখন আগের তুলনায় বেশি পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক সিস্টেম এবং বিভিন্ন ধরনের অটোমেশন প্রযুক্তির ব্যবহার।

এটি শুধু একটি কারখানার চিত্র নয়। দেশের শিল্প খাতে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে উৎপাদনের ধরন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রের মতো বড় শিল্পে আধুনিক যন্ত্রপাতি, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এতে একদিকে উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ছে, অন্যদিকে একই পরিমাণ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে তুলনামূলক কম শ্রমিক।

এ বাস্তবতায় আগামী পাঁচ বছরে নতুন করে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সরকারের যে পরিকল্পনা, তা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে শিল্প খাতে যে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে সংশয়।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সরকার একটি পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এ পরিকল্পনা চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রণীত এ কৌশলগত কাঠামোয় আগামী পাঁচ বছরে নতুন করে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যও রয়েছে সরকারের।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক কোটির মধ্যে শিল্প খাতেই সৃষ্টি করতে হবে প্রায় ৩৩ লাখ ২০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান। এর মধ্যে উৎপাদনমুখী শিল্পে ২২ লাখ ৮০ হাজার এবং নির্মাণসহ অন্যান্য শিল্পে ১০ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য। অর্থাৎ সরকারের এ পরিকল্পনার একটি বড় অংশের সফলতা নির্ভর করছে শিল্প খাতের ওপর।

দেশের উৎপাদনমুখী শিল্পের সবচেয়ে বড় দুটি ভিত্তি হলো বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত। বস্ত্র খাত তুলনামূলকভাবে পুঁজিঘন হলেও তৈরি পোশাক শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই দেশের সবচেয়ে বড় শ্রমঘন শিল্প হিসেবে পরিচিত। কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান, রফতানি আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা, উৎপাদন খরচ কমানো, দ্রুত পণ্য সরবরাহ এবং মান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তায় তৈরি পোশাক খাতেও দ্রুত বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। স্বয়ংক্রিয় কাটিং মেশিন, ডিজিটাল প্যাটার্ন তৈরি, রোবটিক সিস্টেম, উৎপাদন পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় মান নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে অনেক কাজ এখন কম সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে উৎপাদন বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়ছে না কর্মসংস্থান, বরং তা কমিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘মাদক কারবার: বাড়ি গাড়ি জমিসহ ২০০ কোটির অর্থসম্পদ জব্দ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বলা হচ্ছে, মাদক কারবারের আর্থিক ভিত্তি ধ্বংস করাই এর লক্ষ্য। সংস্থা দুটির অনুসন্ধানে এ পর্যন্ত ৩৩৫ জন মাদক কারবারির অর্থ পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে ১৭২ জনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে মামলা করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত বাড়ি, গাড়ি, জমি ও ব্যাংকে থাকা অর্থসহ ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থসম্পদ জব্দ ও ক্রোক করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অনুসন্ধানের আওতায় থাকা মাদক কারবারিদের অনেকের দৃশ্যমান কোনো বৈধ আয় নেই। অথচ প্রতিবছর তাঁদের সম্পদ বাড়ছে। সম্পদের বৈধ উৎসের কাগজপত্রও তাঁরা দেখাতে পারছেন না। তাই অনুসন্ধান চালিয়ে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশে সেসব সম্পদ ক্রোক ও জব্দ করা হচ্ছে। এখনো যাঁদের নামে মামলা হয়নি, তাঁদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা মামলার প্রক্রিয়া চলমান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, একই সঙ্গে সরকার মাদক কারবারিদের নতুন তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

সিআইডি পুলিশ জানিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে পাঁচ থেকে ২০টি বা তারও বেশি মাদকের মামলা রয়েছে, সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিবেদনে মাদক কারবারি হিসেবে নাম রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে অর্থ পাচারের অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের বিষয়েও তদন্ত করা হয়। সম্পদের হিসাব, আয়ের উৎস ও আয়কর নথি যাচাইয়ের পর অর্থ পাচার বা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিললে মামলা করা হয়।

উপরের প্রক্রিয়ায় সারা দেশে ৩৯টি অর্থ পাচার মামলা করেছে সিআইডি। এর মধ্যে ২৪টি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। এসব মামলায় ১১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এজাহারনামীয় ৭০ জন। তদন্তে নতুন করে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে আরও ৪৬ জনের। আসামিদের মধ্যে ১৪ জন গ্রেপ্তার, ২০ জন জামিনে এবং বাকিরা পলাতক।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাচার মামলার এসব আসামির ৩৭ দশমিক ৭২ একর জমি ও চারটি বাড়ি ক্রোক করা হয়েছে। এসব সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি নিশান এক্স-ট্রেইল জিপ এবং ব্যাংকে থাকা ১ কোটি ৯৩ লাখ ১৫ হাজার ৭০৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

ক্রোক করা সম্পদের মধ্যে ঢাকার আদাবরের নুরুল ইসলামের জমি, গাড়ি ও স্বর্ণালংকার; খুলনার শফিক আলম ওরফে শফির প্রায় ৫ কোটি ১১ লাখ টাকার সম্পদ; পাবনার সাঁথিয়ার শাহীন আলমের ডুপ্লেক্স বাড়ি ও মার্কেট; কক্সবাজারের টেকনাফের ফজর আলী, নুরুল কবির ও সিদ্দিক আহমেদের প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ এবং গাজীপুরের টঙ্গীর পারুল বেগম ওরফে পারুলের জমি ও তিনতলা বাড়ি উল্লেখযোগ্য।

পারুল বেগম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, মাদক কারবারের অর্থে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আদালত তাঁর ৫৭ লাখ টাকা মূল্যের ১৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ জমি এবং প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের তিনতলা বাড়ি ক্রোক করেছেন। অর্থ পাচার ছাড়াও পারুলের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে আরও ৯টি মামলা রয়েছে। তাঁর স্বামী মানিক আত্মগোপনে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম বলেন, ‘পারুলের বাড়ি ক্রোক হয়েছে, সেটি আদালতের হেফাজতে রয়েছে। সিআইডি অর্থ পাচার মামলা তদন্ত করেছে, তারাই এখন পারুলের সম্পত্তি দেখভাল করছে।’

সিআইডির আরও ১৫টি অর্থ পাচার মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মামলাগুলোতে ৩৫ একর জমি, ১২টি বাড়ি ও একটি গাড়ি ক্রোক বা বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব সম্পদের বাজারমূল্য প্রায় ৩৭ কোটি ৩ লাখ টাকা।

পাবনার সাঁথিয়ার মাদক কারবারি শাহীন আলমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলার তদন্ত চলছে। আদালতের নির্দেশে এরই মধ্যে তাঁর প্রায় ৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডুপ্লেক্স বাড়ি, মার্কেট এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি হিসাবে থাকা ৪২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৭ টাকা। শাহীনের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলায় গত জুলাইয়ে পাবনার একটি আদালত তাঁকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

সিআইডি এর বাইরে আরও ৬৮টি অভিযোগের অনুসন্ধান করছে। এসব অভিযোগে ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের কথা বলা হয়েছে। এই ব্যক্তিদের প্রায় ৬৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ ১১৬ জন অভিযোগপত্রভুক্ত ও ১৬৬ জন তদন্তাধীনসহ মোট ২৭৬ মাদক কারবারির প্রায় ১২৮ কোটি ৪৭ লাখ ১৫ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বা এর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে সিআইডি।

দেশ রূপান্তর

‘শৃঙ্খলাহীন’ পদোন্নতিতে পুলিশে অস্বস্তি—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আলি আকবর খান। ১৫তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর যোগ দেন পুলিশে। পিএসসির সিরিয়াল ৭। দীর্ঘদিন পুলিশ সুপার পদেই ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাননি পদোন্নতি-পদায়ন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডিআইজি হন। দায়িত্ব পালন করেন পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগে। অথচ তাকে ডিঙিয়ে একই ব্যাচ ও ১৭তম ব্যাচের একাধিক কর্মকর্তা হয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি। পদোন্নতি না পেয়ে তিনি ক্ষোভ ও অভিমানে চলে যান অবসরে। একই ঘটনা ঘটে ১৫ ব্যাচের দুই নম্বর সিরিয়ালে থাকা মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকীর বেলায়ও। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ছিলেন এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তার সিরিয়ালের আগে ও পরের কর্তাদের পদোন্নতি হলেও তিনি বঞ্চিত হওয়ায় চলে যান অবসরে।

এই দুই কর্মকর্তার মতোই পুলিশে চলছে পুরনো ধাঁচের পদোন্নতি। এতে অনেক কর্মকর্তার মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, হতাশা। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যাদের ‘রাজনৈতিক যোগাযোগ ও তদবির ভালো’ তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন। এর বাইরে যোগ্যতা থাকার পরেও অনেকে পাচ্ছেন না পদোন্নতি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে পদোন্নতি ও পদায়ন হয়েছে এখনো একই কায়দায় তা হচ্ছে। একজনকে ডিঙ্গিয়ে আরেকজন চলে যাচ্ছেন উচ্চপদে। এক ব্যাচ রেখে পরের ব্যাচের কর্মকর্তাদের দেওয়া হচ্ছে পদোন্নতি। ফলে জুনিয়রদের অধীনে দায়িত্বপালন করতে হচ্ছে সিনিয়রদের।

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যন্ত পদোন্নতি হয় বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির মাধ্যমে। ডিপিসির প্রধান হন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হয় সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে। পদাধিকার বলে এসএসবির প্রধান হন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। আর নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের (কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর) পদোন্নতি হয় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে। পদাধিকার বলে প্রধান হন পুলিশের মহাপরিদর্শক।

পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পিএসসির মেধাক্রম, কর্মদক্ষতা, আচরণ, বিভাগীয় মামলা, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ এসব বিষয় বিবেচনা করা হয়। এর বাইরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। পুলিশ ক্যাডারে মঞ্জুরিকৃত পদ আছে এএসপি ১ হাজার ২২২টি, অতিরিক্ত এসপি ১ হাজার ১টি, এসপি ৫৯৩টি, অতিরিক্ত ডিআইজি ২৪৬টি, ডিআইজি ১১৭টি ও অতিরিক্ত আইজিপি ২২টি। বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি গ্রেড-১ আছেন দুজন, অতিরিক্ত আইজিপি ২১ জন, ডিআইজি ৭৮ জন, সুপারনিউমারারি ডিআইজি দুজন, অতিরিক্ত ডিআইজি ১৬৩ জন, অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) ১০ জন, সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি ১০৩ জন, এসপি ৪৬২ জন, সুপারনিউমারারি এসপি ৯২ জন, অতিরিক্ত এসপি ৮৭১ জন, এএসপি ৫৫৬ জন, শিক্ষানবিশ এএসপি ২৯০ জন, ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) ৪ হাজার ৭২৯ জন, ইন্সপেক্টর (টিটি) ৯৮৪ জন, ইন্সপেক্টর (সশস্ত্র) ৮৩৬ জন, এসআই (নিরস্ত্র) ১৯ হাজার ২০৪ জন, সার্জেন্ট (শিক্ষানবিশ) ৮৫ জন, সার্জেন্ট ২ হাজার ২৫ জন, টিএসআই ৪৪৬ জন, এসআই (সশস্ত্র) ২০ হাজার ৬৩৮ জন, এটিএসআই ২ হাজার জন, এএসআই (সশস্ত্র) ৬ হাজার ৮৫৭ জন, নায়েক ৭ হাজার ২০ জন ও কনস্টেবল ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ জন।

সম্প্রতি ২৯ ব্যাচের সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার রেজাউল করিম পদোন্নতি বিষয়ে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার রোষানলে পড়েন। অথচ ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার ব্যাচের কয়েকজন কর্মকতাকে ডিঙ্গিয়ে কিছুদিন আগে পদোন্নতি পান। তিনি তার দপ্তরে ডেকে নিয়ে বকাঝকা করলে এসপি তার ফেসবুক পোস্টটি ডিলিট করে দেন। তারপরও তাকে গত মঙ্গলবার খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে তিনি কর্মরত ছিলেন এসবিতে।