চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেডের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি ও স্থাপনা বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে। প্রতীকী মূল্যে এসব সম্পদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টায় ফৌজদারহাটে জলিল টেক্সটাইল মিলস্ প্রাঙ্গণে জমি হস্তান্তর ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম এমপি, সচিব শরাফ উদ্দিন আহমেদ, সেনাপ্রধানসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যেই জলিল টেক্সটাইলের জমি বিওএফের সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে। সেখানে আধুনিক ও উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের জন্য নতুন প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সামরিক লজিস্টিকস ও সংবেদনশীল সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত গুদাম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। জলিল টেক্সটাইলের জমি বিওএফের সম্প্রসারণে ব্যবহারের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৪ সালে। ওই বছরের জুনে তৎকালীন সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল মিলটি পরিদর্শন করে। পরে ৩১শে অক্টোবর সেনাসদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) শাখা থেকে মিলটি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়।
প্রথমদিকে প্রতীকী মূল্যে জমি হস্তান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন না পেলেও চলতি বছরের ১লা জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি প্রতীকী মূল্যে বিওএফের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। তবে দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধ না করে মিলের জমি হস্তান্তরের উদ্যোগে ক্ষুব্ধ সাবেক শ্রমিক-কর্মচারীরা। ২০০৪ সালে মিলের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা তাদের বকেয়া পাওনার অপেক্ষায় রয়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়নের দাবিÑ বেতন, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ তাদের মোট পাওনার পরিমাণ ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন পাওনা না পাওয়ায় আর্থিক সংকট ও চিকিৎসার অভাবে ইতিমধ্যে ৩৭৫ জনের বেশি শ্রমিক মারা গেছেন। জলিল টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড সিবিএ সভাপতি মসিউদ্দৌলা বলেন, ‘আমাদের পাওনা টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। কোনো সমাধান না করেই কারখানাটি হস্তান্তর করা হচ্ছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টির সমাধান চাইছি। আমরা কর্মসূচি পালন করবো এবং মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবো।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে ব্যক্তিমালিকানায় প্রতিষ্ঠিত জলিল টেক্সটাইল ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে নেয়া হয়। একসময় ১২ হাজার ৪০০ স্পিন্ডলের স্পিনিং ইউনিটসহ উইভিং ও ডাইং বিভাগ নিয়ে উৎপাদন চালাতো প্রতিষ্ঠানটি। মানসম্মত সুতা ও কাপড় উৎপাদনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদকও অর্জন করেছিল মিলটি। তবে লোকসান ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৪ সালে এর উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২২ বছর পরিত্যক্ত পড়ে থাকা সেই জমি ও স্থাপনা এবার দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
