বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশনের পাশাপাশি অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারও তাঁর এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তবে এবার কিছুটা স্বস্তির খবর পেল ফিফা।
কয়েক মাস আগে ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্ট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল উয়েফার ৫৫টি সদস্যদেশ। ইনফান্তিনো ক্ষমা চাওয়ার পরও এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তবে গতকাল দ্য গার্ডিয়ান, ইএসপিএন ও বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে উয়েফা।
কয়েকদিন আগে খবর প্রকাশ হয়, ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর উদ্যোগে গড়ে তোলা হবে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি প্রতিষ্ঠান—ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইকুইটি মূল্যায়নের ভিত্তিতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৯ হাজার ৬৭ কোটি টাকা) তোলা হবে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এই পরিকল্পনা প্রকাশ পাওয়ার পরপরই ফুটবলবিশ্বে শোরগোল ওঠে—অভিযোগ ওঠে, এভাবে আসলে "ফুটবল বিক্রি" করে দেওয়া হচ্ছে।
তীব্র চাপের মুখে ইনফান্তিনো নিজের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে জনসমক্ষে ক্ষমা চান। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হয়নি উয়েফা। সংস্থাটি তখন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, "এই মর্মে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে খেলাটিকে এভাবে আর কখনো কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হবে না।"
বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা প্রকাশের পর উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এএফসি যৌথ চিঠিতে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে ফিফাকে। এরপরই আসে বয়কটের সিদ্ধান্ত।
সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের মালিকানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার কোনো পরিকল্পনা ফিফা আর করছে না—এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা ভাবছে উয়েফা। বিষয়টি নিয়ে আজ মোনাকোয় উয়েফার নির্বাহী কমিটির বৈঠকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
উয়েফা শেষ পর্যন্ত বয়কট প্রত্যাহার করলে বড় স্বস্তি পাবে ফিফা। কারণ, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোতে অংশগ্রহণকারী দলের একটি বড় অংশই আসে ইউরোপ থেকে—ফলে উয়েফার অনুপস্থিতি ফিফার টুর্নামেন্ট আয়োজনে বড় প্রভাব ফেলতে পারত।
