যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সৃজনশীল মেধার বিকাশে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এসব কনটেন্টের ব্যাপক ও ধারাবাহিক সম্প্রচারের ফলে সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। এতে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ারের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়, বিভিন্ন নাটক ও সিনেমায় পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে সমাজের প্রচলিত নৈতিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মূলধারার গণমাধ্যমে এ ধরনের সম্পর্কের অবাধ প্রদর্শন সামাজিক নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে এবং পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধির সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আইনি যুক্তি তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান ও আইন মেনে চলা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত হলেও শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে কেবল প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে নোটিশদাতাকে অবহিত করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জননৈতিকতা ও জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (পিআইএল) দায়ের করা হবে বলেও আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
