নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে নিখোঁজ ১৪২ জন ভারতীয় (৩৭ জন অনাবাসী-সহ) নাগরিকের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন এবং দুর্গাপুরের ৬ জন রয়েছেন। মানস সরোবর দর্শনের জন্য একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে ৩৬ জন পর্যটক এবং ভ্রমণ সংস্থার ২ জন কর্মী তিব্বত গিয়েছিলেন। নেপালের বিপর্যয়ের পর থেকে তাদের সঙ্গে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখনও খোঁজ মেলেনি কারও। ফলে প্রতিটি পরিবার গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। ভ্রমণ সংস্থার তরফে বলা হয়েছে,আন্তর্জাতিক ভাবে একটি সংস্থা মানস সরোবর অভিযানের সমস্ত ব্যবস্থাপনা করে। তারা বিপর্যয়ের খবর পেয়েই হেলিকপ্টার নিয়ে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে নামা যায়নি।
নেপাল ট্যুরিজম এবং সে দেশের দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের এই পর্যটকদলের খোঁজ কেউ দিতে পারেননি।
জানা গিয়েছে,মঙ্গলবার দলটি কাঠমান্ডুতে ছিল। সেখান থেকে ছবি এবং ভিডিয়োও তারা পাঠিয়েছিলেন। বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাদের। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ দলটি অভিবাসন দফতরে ছিল। কিন্তু তার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দল থেকেও কেউ যোগাযোগ করেননি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নেপালে নিখোঁজ ও আটকে পড়া পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের সহায়তায় সচেষ্ট রাজ্য সরকার। কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস এবং নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একটি হেল্প লাইন চালু করা হয়েছে।
বুধবার সকালে ভোটেকোশী নদী দিয়ে হড়পা বান নেমে এসে প্রলয় ঘটিয়েছে। সম্পূর্ণ ধংসপ্রাপ্ত তিব্বত সীমান্তের নেপালি শহর রাসুয়াগাঢ়ি। নদীর দুপারে আনুমানিক ৫০ হাজার বাসিন্দার এই জনপদটি প্রায় নিশ্চিহ্ন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে নেপালি সেনা।
