২৪ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ নিউজিল্যান্ডের কিশোরের

কক্সবাজারে প্রমোদতরি ডুবি

২৪ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ নিউজিল্যান্ডের কিশোরের

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে সমুদ্রের বুকে ভেসে চলছিল নিউজিল্যান্ডের একটি পরিবার। প্রায় দুই বছর ধরে তৈরি করা সেই প্রমোদতরিই মুহূর্তের প্রবল ঢেউয়ে ভেঙে দুই টুকরো হলো। সাগরে ছিটকে পড়লেন পরিবারের চার সদস্য। তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও ১৬ বছরের কিশোর আলবার্ট এখনো নিখোঁজ। মঙ্গলবার সকালের সেই দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বুধবার বিকাল পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। উত্তাল সাগরে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও স্থানীয় জেলেদের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে তৈরি করা হয়েছিল প্রমোদতরি ‘আইল্যান্ড গার্ল’। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, রান্নাঘর, ফ্রিজসহ দীর্ঘদিন বসবাসের উপযোগী করে তৈরি করা হয় বোটটি। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের নাজিরারটেক পয়েন্টের কাছে সাগরে প্রবেশের পর প্রবল ঢেউ ও স্রোতের ধাক্কায় সেটি ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়।
এ সময় বোটে থাকা নিউজিল্যান্ডের ওই পরিবারের চার সদস্য সাগরে পড়ে যান। স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের সহায়তায় ৭৪ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ড পুদনে, তার ৩৬ বছর বয়সী স্ত্রী বেলা এবং ১৩ বছর বয়সী ছেলে রালফকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে ১৬ বছর বয়সী আলবার্ট এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

মঙ্গলবার থেকেই আলবার্টকে উদ্ধারে সাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী। পাশাপাশি স্থানীয় জেলেরাও নৌকা নিয়ে আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান করছেন।

যেভাবে দুর্ঘটনা
মঙ্গলবার সকালে মহেশখালী চ্যানেলের মোহনা পেরিয়ে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ সাগরে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পরই প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়ে বোটটি। একপর্যায়ে কাঠামো ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গেলে বোটে থাকা চারজনই সাগরে পড়ে যান।
উদ্ধারের পর রালফ জানান, ঢেউ আঘাত করার সময় সে ও তার বাবা ডেকে ছিলেন। তার মা ত্রিপলের ছাউনির নিচে আলবার্টকে লাইফ জ্যাকেট পরানোর চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ বোটটি ভেঙে গেলে তারা পানিতে পড়ে যান। আলবার্টের লাইফ জ্যাকেটের ক্লিপ ঠিকমতো আটকানো ছিল না বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে সাঁতারও জানত না।

দুই বছর ধরে তৈরি বোট
‘আইল্যান্ড গার্ল’ তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। কক্সবাজার শহরের এসএম পাড়ার একটি ডকে বোটটি তৈরি করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে এক কোটি টাকার বেশি।
দীর্ঘদিন বোটে বসবাসের কথা মাথায় রেখে এতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, রান্নাঘর ও ফ্রিজসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছিল। পরিবারটি প্রায় আড়াই বছর ধরে এই বোটে বসবাস করে দেশের বিভিন্ন নদী ও উপকূলীয় এলাকায় চলাচল করছিল।

সাগরে যাওয়ার আগে বোটটি বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়ায় বিআইডব্লিউটিএ জেটির বিপরীতে নোঙর করা ছিল। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পরিবারটি বোটে করে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ইউনিটে ডুবুরি দল না থাকায় শুরুতে নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে সমস্যা হয়। পরে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর নৌযান সাগরে তল্লাশি শুরু করে। স্থানীয় জেলেরাও আশপাশের এলাকায় খোঁজ চালাচ্ছেন।
এদিকে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বোটটির ভেঙে যাওয়া অংশ স্থানীয় নৌকার সহায়তায় তীরে নিয়ে আসা হয়েছে। নিখোঁজ কিশোরের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।