দেশীয় সংগীতের ‘রানি’ ডলি পার্টন আর নেই

দেশীয় সংগীতের ‘রানি’ ডলি পার্টন আর নেই

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গায়িকা ডলি পার্টন (৮০) আর নেই। প্রায় ছয় দশক ধরে নিজের ক্যারিশমা, আবেগঘন গানের কথা ও অসাধারণ ব্যবসায়িক দক্ষতায় মানুষের হৃদয় জয় করা কিংবদন্তি ‘কান্ট্রি সংগীতশিল্পী’, গীতিকার ও অভিনেত্রী ডলি পার্টন মঙ্গলবার বয়সে মারা গেছেন। তার পরিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি। তবে পার্টনের প্রচারক জানিয়েছেন, টেনেসির ন্যাশভিলে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছেন। পিপল ম্যাগাজিন তার প্রতিনিধিদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই তারকা ‘স্বল্পমেয়াদি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই’ করছিলেন। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই ম্যাগাজিনটিকে পার্টন জানিয়েছিলেন, তিনি কিছু অনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বয়স যখন প্রায় ছয়, তখনই নিজের প্রথম গান লিখেছিলেন ডলি পার্টন। গানটির নাম ছিল ‘লিটল টিনি ট্যাসেলটপ’- ভুট্টার শিষ ও ভুট্টার রেশমি চুল দিয়ে তৈরি নিজের পুতুলকে নিয়ে লেখা এই গান।

তার মা সেই গানের লেখা যত্ন করে একটি জুতার বাক্সে সংরক্ষণ করেছিলেন। দশকের পর দশক পর পার্টন লিখেছেন, আমি ওই ছোট্ট পুতুলটাকে ভালোবাসতাম। লেখার মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতাম। এরপর আর কখনো সংগীত থেকে থামেননি তিনি। তার ভাতিজা ব্রায়ান সিভার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তার উদাহরণ দেখে আমরা বিশ্বাস করতাম, সবকিছুই সম্ভব। তিনি এমন কোনো দরজা দেখেননি, যা তিনি খুলতে পারেননি। আর যে দরজাগুলো তিনি খুলেছেন, সেগুলো ইতিহাস তৈরি ও পরিবর্তন করেছে।

‘কোট অব মেনি কালার্স’, ‘জোলিন’ এবং ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’-এর মতো কালজয়ী গানের মাধ্যমে পার্টন সর্বকালের অন্যতম সর্বাধিক বিক্রীত নারী শিল্পীতে পরিণত হন। তার রেকর্ড বিক্রি হয়েছে ১০ কোটিরও বেশি। তিনি ১১টি গ্র্যামি পুরস্কার পেয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।
স্বচ্ছ-সাদাসিধে ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার উঁচু স্বর্ণালি চুলের স্টাইল, চোখধাঁধানো পোশাক এবং মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার প্রাণবন্ত আনন্দ তাকে সব শ্রেণি-পেশার আমেরিকানের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কান্ট্রি সংগীতকে পরিচিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন ভ্যারাইটি শো উপস্থাপনা করেছেন, সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এমনকি নিজের জন্মভূমি টেনেসিতে তৈরি করেছেন ডলিউড নামের থিম পার্ক, যা বর্তমানে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। তবে তার দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় কারণ ছিল মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের অসাধারণ ক্ষমতা। নিজের ভাষায় ‘চরম দারিদ্র্যের’ পরিবার থেকে উঠে আসা পার্টন বহুবার শ্রমজীবী আমেরিকানের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। নিজের বিশ্বাসের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নিয়মিত অর্থ ও পরিচিতি ব্যবহার করেছেন তিনি।