অনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে মিমিকে হত্যা

ফন্ট সাইজ:

জামালপুর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকায় একটি ভবনের পঞ্চমতলা থেকে ইশরাত জাহান মিমি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃত কাউসার আহমেদ খানের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, সম্পর্কের টানাপড়েন ও টাকা দাবিকে কেন্দ্র করে মিমিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জামালপুর শহরের জিয়া কলেজ মোড় এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায় পিবিআই জামালপুর। অভিযুক্ত কাউসার আহমেদ (৩৬) পৌর শহরের বাগেরহাটা এলাকার মৃত রফিক খানের ছেলে। পিবিআই জানায়, গত ২৩শে আগস্ট সকালে পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট সংলগ্ন বাবুল মিয়া বিল্ডিংয়ের পঞ্চমতলার পূর্ব পাশের একটি কক্ষ থেকে মিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পিবিআই জামালপুরের ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে।

এ ঘটনায় মিমির মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও দু’জনের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআই জামালপুর তদন্তের জন্য গ্রহণ করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪শে আগস্ট বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে জামালপুর সদর উপজেলার বাগেরহাটা এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কাউসার আহমেদ খানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, প্রায় তিন বছর আগে কাউসারের রাফি স্টোরে কেনাকাটার সূত্রে মিমির সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে বকেয়া টাকা পরিশোধের কথা বলে কাউসারকে বাসায় ডেকে নেন মিমি। সেখানে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং সেটি গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন কাউসার। ওই ভিডিও ব্যবহার করে কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করা হতো। একপর্যায়ে কাউসার তার সঞ্চিত অর্থের পাশাপাশি জমি এবং মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির অর্থও মিমির পেছনে ব্যয় করেন বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। মিমি কাউসারকে ইয়াবা সেবনে আসক্ত করার চেষ্টা করতেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলার জন্য কাউসারকে চাপ দিতেন।

এসব বিষয় নিয়ে একপর্যায়ে তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। ঘটনার দিন শনিবার (২২শে আগস্ট) মিমি কাউসারকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন করে তাদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেন এবং কাউসার তার সঙ্গে আছেন বলে জানান। স্ত্রীকে ফোনে কথা বলানো নিয়ে কাউসারের সঙ্গে মিমির ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কাউসার মিমির গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।

গ্রেপ্তারের পর পিবিআইয়ের কাছে কাউসার ১৬১ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত ও আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন করে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।