বোলারদের দাপট কমাতে উইকেটের ‘চরিত্র’ বদলাতে চাইছে অস্ট্রেলিয়া

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে গত সাতটি হোম টেস্টের মধ্যে তিনটিই মাত্র দুইদিনে শেষ হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। বোলারদের স্বর্গরাজ্য থেকে পিচগুলোকে কিছুটা ব্যাটার-বান্ধব করার জন্য কিউরেটরদের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। আসন্ন শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমের আগেই বল ও ব্যাটের ভারসাম্য ফেরাতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্ট স্রেফ দুইদিনে শেষ হওয়ার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ান পিচ ও আধুনিক ব্যাটিংয়ের মান নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সিএ-র অপারেশনস ও শিডিউলিং বস পিটার রোচ জানিয়েছেন, গত এক দশক ধরে উইকেটের ক্ষেত্রে ‘সন্দেহ হলে বোলারদের পক্ষ নাও’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন সেই অবস্থান বদলানো হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পিটার রোচ ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘আমাদের আগের নীতি ছিল যখনই সংশয় তৈরি হতো, আমরা বোলারদের সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করতাম। তবে বর্তমান সময়ের দাবি অনুযায়ী আমাদের চিন্তাধারা বদলাতে হচ্ছে। এখন আমাদের মূল বার্তা হলো, ‘সন্দেহ হলে ব্যাটারের পক্ষ নাও।’ এর অর্থ এই নয় যে আমরা স্থির ও দীর্ঘ ড্র ম্যাচ চাই। বরং আমরা চাই ম্যাচের ফলাফল আসুক খেলার শেষ দিকে।’ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্টিভ স্মিথসহ তারকা ব্যাটারদের পারফরম্যান্স গ্রাফও নিম্নমুখী। ২০১৯ সাল থেকে ডাবল-লাকার কুকাবুরা বল ব্যবহারের পর থেকে উইকেটে অতিরিক্ত মুভমেন্ট পাওয়ায় ব্যাটিং আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন খোদ স্মিথ। ২০১৯ সালের আগের হোম টেস্টে স্মিথের ব্যাটিং গড় যেখানে ছিল ৭৭.২৫, পরবর্তী সময়ে তা নেমে এসেছে ৪৫.৫৩-তে।

পিচের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচিতেও কিছু পরিবর্তন এনেছে সিএ। শেফিল্ড শিল্ডের শেষ সেশনের অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং স্পিনারদের কার্যকারিতা বাড়াতে সেশনের সময় বিন্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে টস নিয়ম বা বোনাস পয়েন্ট সিস্টেমে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনছে না বোর্ড।
বোলিং সহায়ক পিচের পক্ষে থাকা অনেকেই সিএ-এর এই নতুন ভাবনার সমালোচনা করছেন। তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সামগ্রিক ব্যাটিং সংকট কাটাতে এই নীতিগত পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।