জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এক হাজার ২৯০টি। এর মধ্যে শতভাগ বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ১৬টি বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক। বাকি বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে সহনীয় মাত্রা শূন্য দশমিক ৫-৬ মিলিগ্রাম আর্সেনিক রয়েছে। সমপ্রতি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ল্যাবে পানি পরীক্ষা করে এই চিত্র মিলেছে।
জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর টিউবওয়েলে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত নয়। যে কারণে এসব টিউবওয়েলে পানি পান করছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। এতে করে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তারা।
মাত্রাতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৬২ মিলিগ্রাম আর্সেনিক মিলেছে মনিরামপুরের কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার জানান, আমাদেরকে কেউ অবহিত করেনি যে, স্কুলের কলে (টিউবওয়েলে) মাত্রাতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৬২ মিলিগ্রাম আর্সেনিক মিলেছে। তাহলে আমরা কলে লাল রঙ করে দিতাম। তারপরও বিষয়টি নিয়ে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব। কেননা আর্সেনিকযুক্ত পানিতো শিশুদের পান করতে দেয়া যায় না। জেনেশুনে আমরা তাদেরকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না। একই উপজেলার শ্যামকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে মিলেছে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক শূন্য দশমিক ১০২ মিলিগ্রাম। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র জানান, আমাদের টিউবওয়েলে সবুজ রঙ করা রয়েছে। কেউতো এসে বলেনি মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে। তাহলেতো আমরা শিশু শিক্ষার্থীদেরকে সতর্ক করবো যেন তারা ওই কলের পানি পান না করে। তবে আমাদের বিদ্যালয়ে ডিপ টিউবওয়েল রয়েছে। সেই পানি শিক্ষার্থীরা পান করে। শার্শা উপজেলার কায়বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে পাওয়া গেছে, শূন্য দশমিক ৬৫ মিলিগ্রাম আর্সেনিক যা ঝুঁকিপূর্ণ।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোছা, সাইদুন্নেছা জানান, আমাদের স্কুলে ১৮৫ জন শিক্ষার্থী ও দু’টি কল রয়েছে। একটি কল বাইরে অবস্থিত। সেটির পানি কেউ খায় না। ভেতরে অবস্থিত কলের পানি শিক্ষার্থী ও অন্যরা পান করে। তারপরও বাইরের কলে যদি মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া যায় সেটি আমাদেরকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল। কেননা কেউ যদি ওই কলের পানি পান করে তাহলে তার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিসে যোগাযোগ করবো। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আলিম গাজী জানান, সমপ্রতি আমরা যশোর জেলার ৮টি উপজেলার এক হাজার ২৯০টি টিউবওয়েলের পানির আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়েছে আমাদের নিজস্ব ল্যাবে। সেখানে সবকটি টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। তবে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৬টি।
বাকি বিদ্যালয়ের টিউবয়েলে সহনীয় মাত্রা শূন্য দশমিক ৫-৬ মিলিগ্রাম আর্সেনিক রয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ সংস্থা ডব্লিউএচও’র মতে টিউবওয়েলে ০ দশমিক ১ মিলিগ্রাম আর্সেনিক থাকলেও সেই পানি পান করা যাবে না। যশোর মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মাহাবুবুর রহমান জানান, আর্সেনিক হলো বিষ, ন্যূনতম আর্সেনিক থাকলেও সেই পানি পান করা যাবে না। সেখানে ৫ মিলিগ্রাম আর্সেনিকও শিশুদের জন্য ঝুঁকি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোগী হতে হবে। যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ্ জানান, যেসব টিউবওয়েলে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক শনাক্ত হয়েছে সেই টিউবওয়েলের পানি পান করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করবো।
