কুমিল্লার দেবিদ্বারের ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েই বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন রুহুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকার বিনিময়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন সনদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের তদন্তে রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান, দায়িত্বে জালিয়াতির বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান মাসুদের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান সালাহউদ্দিন। দায়িত্ব পেয়েই তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। প্রায় ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে ২০২৫ সালের ৪ঠা জানুয়ারি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ, মুবিনা খাতুন ও হাফিছা নামের তিনজনকে বাংলাদেশি জন্ম সনদ প্রদান করেন।
ঘটনাটি আলোচনায় আসার পর জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৭ই জুলাই শফিউল আলম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা প্রথম এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরেও অভিযোগ দায়েরপূর্বক তদন্তের দাবি জানান। তারই ধারাবাহিকতায় ২৯শে জুলাই জেলার গোয়েন্দা শাখা (বিশেষ নজরদারি উইং) তদন্তের মাধ্যমে সালাহউদ্দিন ও ইউপি সচিব নজরুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেন। ওই তদন্ত রিপোর্টে জালিয়াতির অভিযোগ এনে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতা শামিল বলে গণ্য করা হয়। এ ছাড়াও সরকারি চাল আত্মসাৎ, উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।
এ ছাড়া চেয়ারম্যানের জালিয়াতির তদন্ত করতে গিয়ে আরও ২৩ জন রোহিঙ্গার জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদানের সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, কোটি টাকার বিনিময়ে সালাহউদ্দিন ও নজরুল রোহিঙ্গাদের জন্ম সনদ প্রদান করতেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়ে সালাহউদ্দিন রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান বলেও জানান তিনি। তদন্তে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পরেও সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় দেবিদ্বার জুড়ে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোন একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ইউপি সচিব নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। একাধিকবার মুঠোফোনে কল করার পর তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি অসুস্থ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা জানান, এ বিষয়ে আমরা একটি প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করেছি। জেলা প্রশাসক রেজিস্ট্রার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) কার্যালয় বরাবর রিপোর্ট পেশ করবেন। রেজিস্ট্রার জেনারেল রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
