সাইফুলের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুল

সাইফুলের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুল

ফন্ট সাইজ:

নাটোরের লালপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের বড়বাদকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০৪ জন। শিক্ষকের ছয়টি পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র ২ জন। প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে ২০১৩ সাল থেকে। বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। বর্ষায় কাদা পেরিয়ে স্কুলে আসতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সৃজনশীল নানা উদ্যোগে বিদ্যালয়টিকে আনন্দময় ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলেছেন সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম সুইট। তাকে সহযোগিতা করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. নাসিমা খাতুন। বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, মাঠে ফুলের বাগান, বারান্দায় টবে সাজানো গাছপালা।

শিশুদের আকৃষ্ট করতে প্রাক্‌-প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষ সাজানো হয়েছে ভিন্নভাবে। শিক্ষার্থীদের সততার চর্চায় রয়েছে ‘বিক্রেতাবিহীন সততা স্টোর’। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে ‘আলোকিত শিশু পাঠাগার’ ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ‘রিডিং কর্নার’। প্রতিদিন সেখানে শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে সহায়ক পাঠ দেয়া হয়। বিজ্ঞান শেখাকে আনন্দময় করতে রয়েছে ‘বিজ্ঞান কর্নার’। সহমর্মিতা ও সহযোগিতার চর্চায় রয়েছে ‘মানবতার দেয়াল’। শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে রয়েছে ‘ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড ডিবেটিং ক্লাব’। পাঠ্য বইয়ের বাইরে বিভিন্ন বিষয় সহজে বোঝাতে তৈরি করা হয়েছে থ্রিডি মডেলসহ নানা শিক্ষাসামগ্রী। সাইফুল মানবজমিনকে বলেন, ২০২৩ সালে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ে শিশু উপযোগী আনন্দদায়ক শিক্ষাদান ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারা ভালো মানুষ ও স্মার্ট নাগরিক হয়ে উঠলে আমার পরিশ্রম স্বার্থক হবে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসিমা খাতুন বলেন, সাইফুল একজন ক্রিয়েটিভ ও আন্তরিক শিক্ষক।

তার মতো শিক্ষক পেয়ে আমরা আনন্দিত। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান মানবজমিনকে বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সাইফুল শিক্ষার্থীবান্ধব বেশ কিছু সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়ে বিদ্যালয়টিকে আনন্দময় ও স্মার্ট শিক্ষালয়ে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন। শিক্ষক সংকট থাকলেও শিক্ষার মানের দিক থেকে বিদ্যালয়টি পিছিয়ে নেই। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. নার্গিস সুলতানা জানান, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রত্যন্ত গ্রামের এই বিদ্যালয়টি এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে দুইজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে বিদ্যালয়টিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সাইফুলকে সংবর্ধনা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।