টানা দুই হারে এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লীগে রাজশাহী স্টারসের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার আশা আগেই শেষ হয়ে যায়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটা ছিল অনেকটা আনুষ্ঠানিকতার। সেই ম্যাচে বিধ্বংসী রূপ দেখালো বাংলাদেশের নারী ফুটবল লীগ চ্যাম্পিয়নরা। মালয়েশিয়ার লিকাস স্টেডিয়ামে গতকাল গুয়ামের রোভার্স এফসিকে ৮-০ গোলে হারায় গোলাম রব্বানীর শিষ্যরা। হ্যাটট্রিক করে রাজশাহী স্টারসের শেষটা রাঙান জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেন তহুরা-মনিকারা। তৃতীয় মিনিটে লিড নেয় রাজশাহী। বক্সের ৩০ গজ দূর থেকে ডিফেন্ডার শামসুন্নাহারের নেয়া দূরপাল্লার শট আটকাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন রোভার্স গোলরক্ষক দেসেহা মেন্দিওলা। এরপর বল জালে জড়ালে গোলের আনন্দে মাতে রাজশাহী।
সেই গোলের রেশ না কাটতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে তহুরা খাতুন। ১৮ মিনিটে মোসাম্মত সুলতানার বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে সহজ টোকায় গোল করেন তিনি। ২৫ মিনিটে ফের জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তহুরা। তার জোড়া গোলে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রাজশাহী। বিরতির পরও আক্রমণের পসরা সাজায় বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা। ৫২ মিনিটে মনিকা চাকমার পাস থেকে দুর্দান্ত ড্রিবলে পোস্টের কোণা দিয়ে গোল করেন স্বর্ণা রানী। মিনিট খানেক পর গোলরক্ষককে একা পেয়ে ব্যবধান ৫-০ করেন মনিকা। ৬০ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তহুরা। এরপরও গোল উৎসব হয়। ৭১ মিনিটে রোভার্সের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে একক প্রচেষ্টায় গোল করেন শামসুন্নাহার সিনিয়র। আর যোগ করা সময়ে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোলে ৮-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে রাজশাহী স্টারস।
গ্রুপ ‘এ’-এর সবচেয়ে দুর্বল দল রোভার্স এফসি। তিন ম্যাচে ৩৩ গোল হজম করেছে তারা। একবারও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারেনি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার সাবাহ এফসির কাছে ১৩-০ গোলে হারে রোভার্স। দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের ১২-০ গোলে হারায় ভারতের ইস্ট বেঙ্গল এফসি। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে অংশ হার দিয়ে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী স্টারস। ইস্ট বেঙ্গলের কাছে ৪-০ গোলে হারে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা। এরপর স্বাগতিক মালয়েশিয়ার সাবাহ এফসির বিপক্ষেও ২-১ গোলে পরাজিত হয় রাজশাহী। তিন ম্যাচে এক জয়ে চার দলের মধ্যে তিন নম্বরে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করলো গোলাম রব্বানি ছোটনের শিষ্যরা।
