টেস্ট নিয়ে শান্তর গোপন স্বপ্ন

টেস্ট নিয়ে শান্তর গোপন স্বপ্ন

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাইয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে হারলেও টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘এটাই তো চাই। এশিয়ান দলগুলো সাধারণত এখানে এসে এত ভালো ক্রিকেট খেলে না। আমরা ২৩ বছর পর এসে এমন একটা রেজাল্ট করলাম, তাই অবশ্যই আমাদের আমন্ত্রণ জানানো উচিত। এতে আমরা কন্ডিশন ও চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে পারবো এবং ভালো ক্রিকেট খেলবো ইনশাআল্লাহ। আর ৬ নম্বরে উঠে আসা বড় একটি ব্যাপার। টেস্ট দল নিয়ে আমার বিশাল এক স্বপ্ন আছে, যা অত্যন্ত গোপনীয়। এখনই বলতে চাই না। যেদিন অর্জন করতে পারবো, সেদিন বলবো।’

সফরের শেষ টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় হলেও বোলিং বিভাগের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক শান্ত। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পেসারদের দক্ষতা দেখা গেছে মাঠে। প্রথম ম্যাচে দুই ইনিংসে হাসান মাহমুদ নেন ৯ উইকেট। আর দ্বিতীয় ম্যাচে এক ইনিংসে শরীফুল ইসলাম ৭ উইকেট শিকার করে ইতিগাস গড়েন। হাসান, শরিফুল ও তাসকিন আহমেদ বল হাতে শুরু থেকে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখেন। প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেয়ার সামর্থ্য তৈরি হওয়া প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘পেস বোলিং আক্রমণ, এই জায়গায় আমরা গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছি। বাংলাদেশের পেসাররা গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছে, তারা দারুণ করছে। হাসান-শরিফুল-তাসকিনরা যেভাবে বল করেছে, সব পেসার যেভাবে বল করছে গত কয়েক বছরে, আমি অনেক খুশি। এখানে এবং বাংলাদেশেও তারা অনেক ভালো করেছে। সব কাজ ঠিকভাবে করছে। ভালো ছন্দে আছে তারা। অধিনায়ক হিসেবেও আমি বেশ খুশি।’

পেসাররা সাফল্য এনে দিলেও ব্যাটিং বিভাগের পারফরম্যান্সে উদ্বেগের শেষ নেই, ধারাবাহিক যেন তারা হতেই পারছেন না। শেষ টেস্টের দুই ইনিংসে ১০০ রানের নিচে অলআউট হয় দল। টেস্টে বাংলাদেশের এমন নজির ছিল না। লিটন দাস তিন ইনিংসে ০ রানে আউট হন। অধিনায়ক শান্ত নিজে ক্রিজে থিতু হয়ে আউট হওয়াকে দায়বদ্ধতার অভাব হিসেবে স্বীকার করে নেন। ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা খুবই হতাশাজনক। তবে আমি বিশ্বাস করি টস এখানে একটি বড় প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে যেখানে ব্যাটিং করা বেশ কঠিন ছিল। আমার মনে হয় তিনটি ইনিংসই বেশ কঠিন ছিল, তবে কোনো অজুহাত নয়; আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি। ওরা খুব ভালো বোলিং করেছে, তাই চ্যালেঞ্জটা ছিলই। আমার এখনো মনে হয় কিছু কৌশলগত জায়গায় ভবিষ্যতে আমাদের উন্নতির প্রয়োজন আছে।’

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ১-১ সমতায় টেস্ট সিরিজ শেষ করাকে অর্জন হিসেবে গণ্য করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ডারউইনে জয়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘আপনারা কি ভুলে গেছেন প্রথম টেস্ট? আমি তো ভুলি নাই! দেশের মানুষও ভোলেনি, কেউ ভোলেনি। ওটা অনেক বড় অর্জন ছিল। আমরা কোনো দলকে হারিয়েছি, তা এই দ্বিতীয় টেস্ট দেখলে বোঝা যায়- ওরা যেভাবে কমব্যাক করেছে, টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে (যা ওরা সচরাচর করে না)। আমরা ওদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিলাম। আবার দেখুন ব্যাটিংয়ে ওরা ২০০ রানে অলআউট হয়েছে। তাই সব মিলিয়ে অবশ্যই প্রথম টেস্টের জয় সেলিব্রেট করা উচিত, আর এই টেস্ট ম্যাচ থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত যেন এমন কন্ডিশনে আমরা সামনে আরও ভালো করতে পারি।’