রোমাঞ্চকর এক জয়ে লা লিগায় নতুন মৌসুম শুরু করলো রিয়াল মাদ্রিদ। এস্পানিওলের মাঠে কঠিন লড়াইয়ের পর ২-১ গোলে জয় তুলে নিলো জোসে মরিনহোর দল। প্রথমার্ধে জুড বেলিংহ্যামের গোলে অল হোয়াইটরা এগিয়ে গেলেও আলেক্স কালাত্রাভার গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিক এস্পানিওল। তবে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমেই জয়সূচক গোল করে রিয়ালকে স্বস্তি এনে দেন তরুণ ফরোয়ার্ড কার্লোস এস্পি।
এদিন ম্যাচের হাইলাইটস ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিকে নিয়ে মাঠের ভেতরের বিতর্ক। ম্যাচের শুরু থেকেই তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। ম্যাচ শেষে পুরোনো শিষ্যদের সুরেই প্রতিপক্ষ ও দর্শকদের আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান দ্বিতীয় দফায় রিয়ালের ডাগআউটে দাঁড়ানো মরিনহো।
ভিনির সঙ্গে হওয়া আচরণকে ‘বাড়াবাড়ি’ উল্লেখ করে এ পর্তুগিজ কোচ বলেন, ‘ভিনিসিয়ুস অবশ্যই সাধু নয়। কিন্তু ওর সঙ্গে ওরা যা করছে, তা বাড়াবাড়ি। একেবারে প্রথম মিনিট থেকেই। এরকম ঘটনা ওকে নিয়ে বারবারই ঘটছে এবং এক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আরেক প্রতিপক্ষের কাছে ফিরে আসছে।’
ব্রাজিলিয়ান শিষ্যকে শান্ত রাখার গুরুত্ব বুঝিয়ে মরিনহো, ‘তার আবেগের ওপর অনেক নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। আমি তাকে বলেছি যে, যদি সে গোল করে, তবে গোল উদযাপনের ব্যাপারে তাকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা এমন এক যুগে আছি, যেখানে দাবি করা হয় সমাজ অত্যাচারের বিরুদ্ধে। তবুও ভিনির ক্ষেত্রে আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি তাকে উত্যক্ত করতে, প্রতিপক্ষ এবং দর্শকদের কাছ থেকে। তাকে আমাদের যথাসম্ভব প্রস্তুত করতে হবে।’
ম্যাচটিতে রিয়ালের জার্সিতে দারুণ অভিষেক হয় কার্লোস এস্পির। ৮০ মিনিটে বেলিংহ্যামের বদলি নেমে মাত্র ১০ মিনিট খেলেই দলের হয়ে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন ২১ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। এর আগে নবম মিনিটে সফরকারীদের এগিয়ে নেন বেলিংহ্যাম। ডি-বক্সের অনেক বাইরে বাঁ দিকে ফ্রি কিক পায় তারা। সেখান থেকে আর্দা গুলেরের দারুণ এক ক্রসে ভিড়ের মধ্যে লাফিয়ে হেডে দলকে এগিয়ে নেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।
৩০ মিনিটে ঠান্ডা মাথায় থিবো কর্তোয়াকে পরাস্ত করে এস্পানিওলকে ম্যাচে ফেরান কালাত্রাভা। কোচ মরিনহোর ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন ও শেষ মুহূর্তের গোল রিয়ালকে এনে দেয় স্বস্তির জয়। তবে ভিনি ইস্যু নিয়ে কোচ ও প্রতিপক্ষের মধ্যকার এই উত্তেজনা নতুন মৌসুমের শুরুর দিকেই বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
