পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি নিশ্চিত হলেই সম্পর্ক সফল হবে : জয়শঙ্কর

পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি নিশ্চিত হলেই সম্পর্ক সফল হবে : জয়শঙ্কর

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল প্রতীক্ষিত ভারত সফর নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, যেকোনো সম্পর্ক সফল হতে হলে তাতে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। সম্পর্কটি যেমন তাদের জন্য ফলপ্রসূ হতে হবে, তেমনি আমাদের জন্যও তা হতে হবে। তিনি বলেছেন,আমি বাস্তববাদী। তাই প্রতিবেশীরা কেবল আমার স্বার্থেই কাজ করবে—এমনটা আমি আশা করি না। তাদের স্বার্থের বিষয়গুলো আমার যেমন বোঝা ও সম্মান করা প্রয়োজন—ঠিক যেমনটা আমি তাদের কাছ থেকেও আশা করি—তেমনই একটি ন্যায্য ও যৌক্তিক ভারসাম্য সেখানে থাকতে হবে। যখন সেই সাধারণ ভিত্তি বা সমঝোতার জায়গাটি খুঁজে পাওয়া যায়, তখনই সম্পর্কগুলো সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে চলে। তিনি যোগ করেছেন, তাই সব প্রতিবেশীর ক্ষেত্রেই আমি বলব, দিনশেষে সম্পর্ক মানেই হলো পারস্পরিকতার সেই মেলবন্ধন, যার ওপর ভিত্তি করেই পুরো বিষয়টি গড়ে ওঠে।
ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরাম'-এ শনিবার জয়শঙ্কর ভারতের কাছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকার দাবির ব্যাপারে প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, দ্বিপাক্ষিক সফরের পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের 'আউটরিচ সেশন'-এ যোগ দেয়ার জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দুই বছর আগে হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে বড় ধরনের অবনতি ঘটেছিল, তা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে জয়শঙ্কর বলেন, "আমি আশা করি না যে, প্রতিবেশীরা কেবল আমার স্বার্থেই কাজ করবে। তাদের স্বার্থের বিষয়গুলোকেও আমার যথাযথভাবে স্বীকার ও সম্মান করতে হবে—ঠিক যেমনটা আমি তাদের কাছ থেকেও আশা করি।
গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন করে কিছুটা টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর ঢাকা তাকে প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। এবং হাসিনার প্রত্যর্পণের জোরালো দাবি জানিয়েছে।
ভারত এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান দূরে সরিয়ে রেখে জানিয়েছে যে, নয়াদিল্লি এতে কোনো ভূমিকা রাখেনি এবং হাসিনার মন্তব্যকে সমর্থনও করেনি।

এছাড়া পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর বলেছেন যে, দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কের এক "দীর্ঘ ইতিহাস" রয়েছে। এখন আমরা অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিজস্ব সম্পর্ক গড়ে তুলেছি, তবে মূল বিষয়টি হলো, পাকিস্তান কেবল ভারতের প্রতিবেশী বলেই অনন্য নয়। আমাদের আরও প্রতিবেশী দেশ রয়েছে। এমন আরও অনেক দেশ আছে যাদের নিজেদের মধ্যে সমস্যা রয়েছে।
তিনি এটি অনন্য কেন তার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, বর্তমান সময়ে অন্য কোনো দেশ নেই যারা অন্য কোনো প্রতিবেশীকে আক্রমণ ও চাপে ফেলার জন্য এত সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিক ভাবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে। আর এর প্রভাব এ দেশের জনমতের ওপরও পড়ে।