ইরানের অবরোধ রুখতে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশল

সংকেত নিভিয়ে তেলের গোপন চালান

ইরানের অবরোধ রুখতে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশল

ফন্ট সাইজ:

ইরানের ড্রোন হামলা ও দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধ মোকাবিলা করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে নতুন এক কৌশল গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো। মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী সুপারট্যাংকারগুলো স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সংকেত (এআইএস ট্রান্সপন্ডার) বন্ধ করে রাতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে। এই গোপন অভিযানের মাধ্যমে ইরানের দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনাকে একপ্রকার ব্যর্থ করে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এ খবর জানিয়েছে সিএনএন।

মাঝসমুদ্রে তেল স্থানান্তর: পারস্য উপসাগরীয় তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণাণিতে পৌঁছানোর আগেই নিজেদের ট্রান্সপন্ডার বা ট্র্যাকিং সংকেত বন্ধ করে দিয়ে রাডার নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করছে। ওমান উপসাগরে নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছানোর পর তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষমাণ বড় জাহাজে সরাসরি তেল স্থানান্তর করে (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার)। এরপর খালি ট্যাংকারগুলো পুনরায় সংকেত বন্ধ করে নিজেদের বন্দরে ফিরে আসে। সম্প্রতি গ্রিসের মালিকানাধীন সুপারট্যাংকার ‘কিকু’ এই কৌশলে সফলভাবে তেল পরিবহন সম্পন্ন করেছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই কৌশলের ফলে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক ৮০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে, যা স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি।

বিকল্প রুট ও বিশ্ববাজারে উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ: ইরানের সংঘাতময় জলসীমা এড়াতে সৌদি আরব দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগরের বদলে নিজস্ব ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া ব্রাজিল, গায়ানা ও ভেনিজুয়েলা দৈনিক অতিরিক্ত ১০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করছে। অন্যদিকে সংকট সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জরুরি মজুদ (এসপিআর) থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে এবং চীন তাদের নিজস্ব তেলের মজুদ ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি সংকট
তবে এই ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। টানা ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯০ কোটি ব্যারেল তেলের জরুরি মজুদ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া সংঘাত ও হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া ও ইউরোপের প্রধান তেল শোধনাগারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অবরোধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির বড় চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে এইসকল ব্যবস্থা কতদিন সফলভাবে চলবে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।