আগুনের জেরে কলকাতায় অনেক হোটেল বন্ধ ঘোষণা

বহু বাংলাদেশি বিপাকে

আগুনের জেরে কলকাতায় অনেক হোটেল বন্ধ ঘোষণা

ফন্ট সাইজ:

কলকাতার নিউমার্কেটকে ঘিরে মির্জা গালিব স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট ও রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড নিয়ে ৫০০ মিটার এলাকার সর্বত্র বাংলাদেশের ছাপ। হোটেল, রেস্তরাঁ, বাংলা খাবারের দোকান থেকে শুরু করে হাতের কাছে অগুনতি মানি চেঞ্জার, বাসের টিকিট কাউন্টার সবই এই অঞ্চলকে বাংলাদেশিদের থাকার জন্য আদর্শ জায়গা। শাড়ির দোকান, জুতোর বড় বিপণি থেকে মল সবই হাতের কাছে। আর সস্তার হোটেল মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত বাংলাদেশিদের বিশেষ করে টেনে আনে এই নিউমার্কেট লাগোয়া অঞ্চলে।

তবে মঙ্গলবারের হোটেলে আগুনের মর্মান্তিক ঘটনাটি মিনি বাংলাদেশের সস্তার হোটেলগুলোকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। শিখা ইন হোটেলের অগ্নিকাণ্ড এই সব হোটেলের অব্যবস্থার চিত্রটি নগ্নভাবে তুলে ধরেছে। নিয়মকানুনের কোনো বালাই নেই। খোদ মন্ত্রীই বলেছেন। বাংলাদেশিরা নিজেরা যে বর্ণনা দিয়েছে তা থেকেই স্পষ্ট হয়েছে, ঘরগুলো ঘিঞ্জি, করিডোরগুলো সরু, সংকীর্ণ সিঁড়ি, বায়ুচলাচল ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই, অ্যালার্ম নেই এবং বহু ক্ষেত্রেই কোনো জানালাও নেই। আর বিদ্যুতের তার খোলা অবস্থায় যাতায়াতের পথেই রাখা রয়েছে।
কলকাতার এই অঞ্চলে এখনো বাংলাদেশিরা আসছেন। শুক্রবার সকালেই বেশ কয়েকটি বাসে বনগাঁ থেকে বাংলাদেশিরা এসেছেন। অনেকে হোটেলে মালপত্র রেখে ছুটে যাচ্ছেন অভিশপ্ত হোটেলটি দেখতে। অনেকে এসেছেন ব্যবসায়িক কাজে। তবে অধিকাংশই চিকিৎসা করাতে।

আরও পড়ুন:
নতুন ঠিকানা

আবার যে ভবনটির হোটেলে আগুন লেগেছিল সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ৮০ জন আবাসিক ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদেরই একজন শাহজাহান মিঞা জানালেন, মৃত্যুকে সামনে থেকে দেখেছি। দু’দিন অন্য একটি হোটেলে থেকে আজই ফিরে যাচ্ছি।
কুমিল্লার মামুনুল ইসলাম এর আগে ব্যবসার কাজে বহুবার কলকাতা এসেছেন। উঠেছেন সস্তার হোটেলেই। তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানালেন, ভাই নিরুপায়। আমিও দেখেছি সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই এই অঞ্চলের হোটেলগুলোতে। কলকাতার যে সব বাংলাদেশি আসেন তাদের অনেককে এক সপ্তাহের বেশি সময় থাকতে হয়। আর চিকিৎসার জন্য যারা আসেন তাদের তো অনেক সময়ই মাসাধিককাল থাকতে হয়। তাদের জন্য সস্তার হোটেল খোঁজা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাছাড়া মধ্য কলকাতায় অবস্থানের কারণে যাতায়াতেরও সুবিধা।

সদর স্ট্রিটের একটি ফুটপাথের দোকানে দাঁড়ানো যশোরের মোহাম্মদ ইয়াকুব এক আত্মীয়কে নিয়ে চিকিৎসার জন্য কলকাতা এসেছেন। তিনি আগুনের ঘটনায় আতঙ্কিত হলেও জানালেন, এটা নিছকই দুর্ঘটনা বলে ধরে নিয়ে থেকে যাচ্ছি। আর কোথায় বা যাবো। চিকিৎসার খরচ তো রয়েছে, তার সঙ্গে দামি হোটেলে থাকার মতো সামর্থ্য নেই।
স্থানীয় এক বাসিন্দা সুলতান আহমেদ জানালেন, বাংলাদেশিদের কথা মাথায় রেখে হোটেল ব্যবসায়ীরা এই এলাকায় বহু বাড়ি ভাড়া নিয়ে হোটেল ও গেস্টহাউস খুলেছেন। অনেক আবাসিক বাড়ির মালিক বাড়ির পুরোটা বা অংশবিশেষ ভাড়া দিয়ে হোটেল-গেস্টহাউস তৈরি করে আয় করছেন। পার্টিশন দিয়ে ঘুপচি ঘর বানিয়ে সেগুলো ভাড়া দিচ্ছেন। সেখানে নির্বিচারে এসিও লাগানো হয়েছে।

শিখা ইন হোটেলটি যে ভবনটিতে চলছিল, সেটি একটি বাসভবন ছিল। কবে যে সেটির বিভিন্ন অংশ ভাড়া বা ইজারা দিয়ে হোটেল ও গেস্টহাউস করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে তার সঠিক সময় কেউই বলতে পারেন নি। অভিযোগ, সবকিছু জেনেও পৌরসভা, দমকল, এইসব হোটেল ও গেস্টহাউসের প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছে। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার একটি কানেকশান থেকে অনেক এসি চালানোরও নজির রয়েছে। কখনো কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় নির্ভাবনায় মালিকরা হোটেল চালিয়ে গিয়েছেন।

হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সংগঠনের কর্তা সুদেশ পোদ্দার জানিয়েছেন, এখানকার ছোট হোটেলগুলো ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে নিজেদের মতো করে আবাসিক রাখে। আইনকানুন মানার কোনো বালাই নেই।