নিত্যপণ্যের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই চড়া ডিম ও মুরগির দাম। এক বছরের ব্যবধানে এই দু’টি নিত্যপণ্যের দর যথাক্রমে ৯ ও ৩ শতাংশ বেড়েছে। বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে শুক্রবার
বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা, সোনালি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর বাদামি ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে হলেও বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি, টমেটোসহ কয়েকটি সবজির দাম ১শ’ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া কয়েকদিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি মুদিপণ্যের দামও বেড়েছে। শুক্রবার রাজধানীর মগবাজার চারুলতা কাঁচাবাজার, কাওরান বাজারসহ একাধিক বাজার ঘুরে দামের এই চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, বরবটি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ২০০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১৪০ টাকা এবং বেগুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া অন্যান্য সবজির মধ্যে পটোল ৬০ টাকা কেজি, শসা ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, কাঁকরোল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে, দ্বিগুণেরও বেশি কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। এখন কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ টাকা।
মুরগি-ডিম বিক্রেতারা বরাবরই কম আমদানির দোহাই দিচ্ছেন। অর্থাৎ, সরবরাহ নেই বলে দামও বাড়ছে বলে জানান তারা। তবে, ডিমের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের দামে খামারিরা নায্য দামে ছাড়লেও পাইকারি বিক্রেতাদের থেকে চড়া দামে ডিম কিনতে হয় খুচরা বিক্রেতাদের।
কাওরান বাজারের মুরগি বিক্রেতা জহিরুল আলম বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। আজ (শুক্রবার) ব্রয়লার ১৯০ টাকায় কেজি বিক্রি করেছি। সোনালি মুরগিও আগের মতো ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মগবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মো. মঈনুদ্দিন বলেন, চাহিদামতো মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না। যে পরিমাণ মুরগি ঢুকছে ঢাকায়, তারও বেশি চাহিদা আছে। একই বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আরিফ মানবজমিনকে বলেন, গত দেড় মাসে ডিমের দাম ডজনে ৫০ টাকা বেড়েছে। আমি খামারিদের কাছে জেনেছি ডিম প্রতি শ’ ৯শ’ টাকায় খামার থেকে ছাড়ে। কিন্তু সেই ডিম আমরা কিনতে দিতে হয় ১১৬০ টাকা। তাহলে মাঝে এত টাকা যায় কার পকেটে?
ওদিকে কাঁচা বাজারের বাইরেও বেশ কিছু মুদি পণ্যের দামও বেড়েছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী নিত্যপণ্যের দাম কমলেও বাজারে এর ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য বলছে, জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৩২ শতাংশে নেমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭.১৬ শতাংশে। কিন্তু বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে আগের মাসের তুলনায়। ফলে জীবনযাত্রার মানের ভারসাম্য রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই।
খুচরা বাজারে গত এক মাসে কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে খোলা আটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও প্যাকেট আটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ময়দার কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা বেড়ে খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ এবং প্যাকেট ময়দা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব জাতের ডালের কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে মোটা দানার মসুর ডালের কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে বাজারে ৫ লিটার সয়াবিন তেলের বোতল ৯৫৫ থেকে ৯৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৭৫ টাকায়। কিছুদিন আগেও খোলা চিনির কেজি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা ছিলো। যা এখন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পোলাওয়ের চালের দামও দুই মাসের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে।
