এমন ঘটনা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়। যেটি ঘটিয়েছে সিলেটের ট্যাটো বাহিনীর প্রধান ‘ট্যাটো’ সুমন। সিলেট থেকে অপহৃত করা হয় র্যাব সদস্যকে। মারধর করে ফেলে দেয়া হয় হরিপুরে। এ ঘটনায় হরিপুরের ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হলে কৌশলে পালায় ট্যাটো সুমন ও তার সহযোগীরা। সিলেট ছাত্রদলের নেতা হিসেবে ট্যাটো সুমন সবার কাছে পরিচিত। নগরের উপশহর এলাকায় তার বসবাস। সাম্প্রতিক সময়ে বাইপাস এলাকার চোরাচালানের একাংশের নিয়ন্ত্রক সে। তার রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পুলিশ ও র্যাব চোরাচালানের গাড়ি আটকালেই গিয়ে হাজির ট্যাটো সুমন ও তার লোকজন। অনেক ঘটনা ঘটে শাহপরান বাইপাসে। সন্ধ্যা হলেই গাড়ি নিয়ে ঘুরে ট্যাটো বাহিনীর সদস্যরা। চোরাচালানের গাড়ি চাঁদা না দিলে যেতে পারে না।
আর যারা টাকা দেয় তাদের নিরাপদে শ্রীরামপুর পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। জৈন্তাপুরের হরিপুর থেকে প্রতিদিন আসে শত শত গাড়ির জিরার চালান। দু’টি গ্রুপ বাইপাস নিয়ন্ত্রণ করে। ট্যাটো সুমন ছাড়া শিবগঞ্জের ফরহাদ ও তার বাহিনী ওই রুটের আরেক অংশের নিয়ন্ত্রক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার ভোররাতে ট্যাটো সুমন ও তার বাহিনীর লোকজন দায়িত্ব পালনরত দুই র্যাব সদস্যের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে তারা এক সদস্যকে আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
মারধর করে ওই র্যাব সদস্যকে আহত করে। এরপর তাকে গুরুতর অবস্থায় ফেলে দেয়া হয় হরিপুর বাজারের পশুর হাট এলাকায়। ওই র্যাব সদস্যকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হন। তারা ওই দিন সকাল ১০টার দিকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে অপরাধীদের আটকে এলাকার মানুষের সহযোগিতা চান। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কাশেম নামের ওই র্যাব সদস্যকে বাজারে ফেলে দিয়ে ট্যাটো সুমন সহ তার বাহিনীর লোকজন আশ্রয় নেন লামা শ্যামপুর গ্রামের ফখরুলের বাড়িতে। স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে তারা ওখান থেকে পালিয়ে যায়। তবে এ সময় সাদ্দাম নামের তাদের এক সহযোগীকে আটক করে নিয়ে আসা হয়েছে।
এদিকে, হরিপুরের ঘটনার আগে ঘটে দাসপাড়া বাইপাস এলাকার ঘটনা। চোরাচালানের পণ্য আটক নিয়ে র্যাব সদস্যদের সঙ্গে ট্যাটো সুমনের বাহিনীর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা দুই র্যাব সদস্যকে মারধর করে। এরপর একজনকে গাড়িতে তুলে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। ঘটনার সময় ট্যাটো সুমন ও তার বাহিনীর লোকজন সশস্ত্র অবস্থায় ছিল। র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি জানার পর পিছু নিয়ে তারা হরিপুর পর্যন্ত যায়। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার শাহপরান থানায় র্যাব সদস্য আবুল কাশেমের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় র্যাবের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল উল্লেখ করা হয়েছে বটেশ্বর এলাকায়। সেখানে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
শাহপরান থানার ওসি ফেরদৌস আহমদ ঘটনার দিন বুধবার মানবজমিনের কাছে র্যাবের ওপর হামলার ঘটনার কথা স্বীকার করেন। বলেন, শুক্রবার বিকালে র্যাবের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে, সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। র্যাব সদস্যদের অতর্কিত হামলা, মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দানের ঘটনায় এ মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরান থানার সাব ইন্সপেক্টর সাজ্জাদুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনায় সাদ্দাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, মামলায় র্যাবের পক্ষ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ট্যাটো সুমন ছাড়াও হরিপুরের ওয়েস আহমদ, সুয়েব আহমদ, শাহাবউদ্দিন সাদ্দাম, ফয়েজ আহমদ, আফাজুর রহমান আফাজ, ফখরুল ইসলাম, সুলতান আহমদ, মো. রায়হান আহমদ ও পীরের বাজার এলাকার বারেক আহমদ। দাসপাড়া এলাকার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হরিপুর এলাকার ওয়েস ও জাহাঙ্গীরের চোরাই মালামাল র্যাব সদস্যরা দাসপাড়া এলাকায় আটক করেন। এরপর হরিপুর থেকে কয়েকটি গাড়ি নিয়ে চোরাকারবারি আসে। খবর দেয়া হয় ওই অংশের নিয়ন্ত্রক ট্যাটো সুমন ও ফরহাদকে। ট্যাটো সুমন ঘটনাস্থলে গেলেও ফরহাদ যায়নি। তার লোকজন উপস্থিত ছিল।
