কলকাতায় নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে আজ, স্বজনদের অপেক্ষা

কলকাতায় নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে আজ, স্বজনদের অপেক্ষা

ফন্ট সাইজ:

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশির মরদেহ আজ দেশে আনার কথা রয়েছে। প্রিয়জন হারানোর শোকের সঙ্গে এখন স্বজনদের অপেক্ষায় যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ উৎকণ্ঠা। কখন দেশে ফিরবে প্রিয়জনের মরদেহ, সেই অপেক্ষায় কুষ্টিয়ার চার পরিবারসহ নিহতদের স্বজনরা।

নিহত ছয় বাংলাদেশির মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফসানা শারমিন (২৫), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী (৬৪) রয়েছেন। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায়। নিহত অন্য তিনজন হলেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার বেগুনবাড়ির আহমেদ বাবু, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু ও রেবতী সরকার। নিহত রেবতী সরকারের পশ্চিমবঙ্গে সৎকার করা হবে। বুধবার ভোরে কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষদের বাড়িতে এখন শুধুই কান্না আর অপেক্ষা। কয়েকদিন আগেও যে পরিবার প্রিয়জনদের সুস্থভাবে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিল, সেই পরিবারকেই এখন অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের নিথর দেহের জন্য। দেবাশীষের পরিবারের সদস্যরা জানান, ভারতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার দুপুরের দিকে মরদেহ হস্তান্তরের কথা ছিল। সে অনুযায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতেই মরদেহ কুষ্টিয়ায় আনার প্রস্তুতি নেয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তের মরদেহ কুষ্টিয়ার মহাশ্মশানে সৎকার করা হবে। আর দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন ও তার বাবা আকরাম আলীর মরদেহ মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। তবে ছাড়পত্র পাওয়ার জটিলতায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মরদেহ হস্তান্তর করা হয়নি। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার সকালে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। দেবাশীষের সহকর্মী সৌরভ হোসেন বলেন, আমরা সারাদিন দু’টি এম্বুলেন্স নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। ভারত থেকে মরদেহ ছাড়ার পর বেনাপোল স্থলবন্দরে গিয়ে আমরা গ্রহণ করবো। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারত থেকে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়নি। আশা করছি শনিবার সকালে মরদেহ ছাড়বে। আমরা সকালে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে রওনা হবো। দেবাশীষের ভগ্নিপতি মিঠু বলেন, আমরা চেষ্টা করছি রাতেই মরদেহ হস্তান্তর করে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে। তবে সেটা কতোটা সম্ভব হবে, এখনো নিশ্চিত নই।

এদিকে দেবাশীষের আদরের ছোট্ট রাজকন্যা মহিমা দেশে থাকায় কলকাতার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকে প্রাণে বেঁচে গেছে। কিন্তু এত অল্প বয়সে সে যে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় বাবা-মাকে হারিয়েছে, তা এখনো বোঝার বয়স হয়নি তার। আনমনে বাবা-মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে সে। অপেক্ষা করে, কখন বাবা-মা আর ছোট ভাই দেশে ফিরবে। সে এখনো জানে না, এতদিন যে বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের ফেরার অপেক্ষায় ছিল, তাদের কফিনবন্দি মরদেহই সামনে হাজির হবে। দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে এখন প্রতিটি মুহূর্ত যেন দীর্ঘ হয়ে উঠেছে। মরদেহ দেশে ফিরলেই হয়তো অপেক্ষার অবসান হবে, কিন্তু প্রিয়জন হারানোর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা আর কখনো পূরণ হওয়ার নয়। কুষ্টিয়ায় নিহত চারজনের বাড়িতে তাই এখন শোকের মাতম।