ময়মনসিংহে গ্যাস সংকটে ২০ কারখানা ছুটি

ময়মনসিংহে গ্যাস সংকটে ২০ কারখানা ছুটি

ফন্ট সাইজ:

তীব্র গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহের ২০টি শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ার পর গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় দুপুরের খাবারের সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে তাদের ছুটি দেয়া হয়। বিকালে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, সকাল থেকেই গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। গ্যাসের অভাবে শ্রমিকরা কারখানায় এলেও ২০টি কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছুটি দিতে হয়েছে। অন্য কারখানাগুলোতেও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ভালুকা পৌর এলাকা ও গ্যাস অফিসের আশপাশের কিছু কারখানায় তুলনামূলকভাবে গ্যাসের চাপ থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে চাপ অনেক কম।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কারখানা গ্যাসনির্ভর। বর্তমানে এসব কারখানার প্রায় প্রতিটিই গ্যাস সংকটে ভুগছে। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। সাধারণত কারখানাগুলো বিকাল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চলে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের খাবারের সময় মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল ও বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয়।

তবে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বিকাল ৫টার পর গ্যাসের চাপ বাড়ার কথা জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল। শিল্প পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলগুলো। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টি বন্ধ রয়েছে। সাতটি মেশিন পিডিবি’র বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চালু রাখা হয়েছে। ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসে গ্যাস সংকটের কারণে ৩০টি মেশিন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সেও উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমেছে। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে স্বাভাবিক গ্যাসের চাপ না থাকায় ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ফার্নেস বন্ধ রয়েছে।

এতে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলের শ্রমিক হাফিজা আক্তার বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে কাজ অনেক কমে গেছে। বাসাবাড়িতেও গ্যাস সংকট থাকায় রান্নাবান্নায় সমস্যা হচ্ছে। ভালুকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ জানান, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে কারখানায় গ্যাসের চাপ কম। কারখানায় যেখানে ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এতে উৎপাদন ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমেছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ময়মনসিংহের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, ভালুকা এলাকায় ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দু’টি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে সেখানে ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থা চালিয়ে নিতে হচ্ছে। গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও আয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।