বৈঠার ছন্দে ছুটলো নৌকা মাঝিমাল্লার গানে মুখর ইছামতী

বৈঠার ছন্দে ছুটলো নৌকা মাঝিমাল্লার গানে মুখর ইছামতী

ফন্ট সাইজ:

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপায় ঐতিহ্যবাহী ইছামতী নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ। এতে ৯টি ঘাসি নৌকা ও ৪টি কোষা নৌকা অংশগ্রহণ করে। কলাকোপা নৌকা বাইচ আয়োজক কমিটির উদ্যোগে এবং নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির পরিচালনায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নৌকা বাইচ দেখতে সকাল থেকেই নদীর পাড়ে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বিকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে এবং ছোট-বড় নৌকা ও বোটে বসে উপভোগ করেন নৌকা বাইচ। নৌকার মাঝিমাল্লারা একসঙ্গে বৈঠা টানার সময় ছন্দ মিলিয়ে গান গেয়ে প্রতিযোগিতায় প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন। মাঝিমাল্লাদের সেই গান ও বৈঠার তালে তালে নৌকার ছুটে চলার দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি করে।

পছন্দের নৌকাকে উৎসাহ দিতে দর্শকরা হাততালি, চিৎকার ও উল্লাসে মুখর করে তোলেন ইছামতীর দুই পাড়। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে নদীর পাড়ে বসে গ্রাম্য মেলা। মেলায় নানা ধরনের দেশীয় খাবার, মিষ্টি, খেলনা, প্রসাধনী, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসে। শিশুদের জন্য ছিল বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনের আয়োজন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই মেলায় ঘুরতে আসেন। ফলে নৌকা বাইচের পাশাপাশি মেলাও পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। তিনি বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের হাজার বছরের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি অংশ। আধুনিকতার এই সময়ে আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিগুলো ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে আমাদের শেকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে। নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, একসময় নবাবগঞ্জের ইছামতী নদীর প্রায় ৩০টি পয়েন্টে নৌকা বাইচ হতো। এখন পানির অভাবে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। ইছামতী নদীর উৎপত্তিস্থল সোনাবাজু-কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় দ্রুত স্লুইস গেট স্থাপন করা প্রয়োজন। নদীতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে নৌকা বাইচের পাশাপাশি ইছামতী নদী ও এর আশপাশের জনপদও প্রাণ ফিরে পাবে।