দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিশানগঞ্জ এবং আসামের ধুবড়ি- এই তিন ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডোরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহার’-এর মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে। শুক্রবার শিলিগুড়ির রানীডাঙায় সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার এবং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনায় তিন দিনের সফরে অমিত শাহ বৃহস্পতিবার রাতে শিলিগুড়িতে এসেছেন। এক মাসের ব্যবধানে তিনি এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন। এদিন প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার নতুন প্রশাসনিক, আবাসিক প্রকল্পের শিলান্যাস এবং কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন অমিত শাহ।
সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের সমালোচনার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শাহ। বলেছেন, শিলিগুড়ি করিডোরকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর প্রায় ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া অত্যন্ত জরুরি হলেও পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কাছ থেকে অনুরোধ সত্ত্বেও জমি পাওয়া যায়নি। কিন্তু নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেয়ার পরেই জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রাজ্য সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ ও এসএসবি’র জমিজট কাটিয়ে ১,১২৯ একর জমি হস্তান্তর করেছেন। এমনকি, প্রাতঃরাশের আলোচনার সময় বাকি থাকা ২৯ একর জমির অনুমোদনও তৎক্ষণাৎ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন।
কারগিল যুদ্ধের পর ‘ওয়ান বর্ডার, ওয়ান ফোর্স’ নীতি অনুযায়ী ২০০১ সাল থেকে ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত- নেপাল সীমান্ত এবং ২০০৪ সাল থেকে ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-ভুটান সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে এসএসবি। কাঁটাতারহীন উন্মুক্ত সীমান্তে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রীতি বজায় রেখে দিবারাত্রি কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, যা এসএসবি জওয়ানেরা নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন। ‘ওয়ান বর্ডার, ওয়ান ফোর্স’ নীতি অনুযায়ী, ভারতের প্রতিটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ভাবে একটিমাত্র আধা-সামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
