জিপিএ-৫ পেয়েও হাসি নেই চাম্পার

জিপিএ-৫ পেয়েও হাসি নেই চাম্পার

ফন্ট সাইজ:

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের বাগডোকরা দোলাপাড়া এলাকার দরিদ্র পরিবারের সন্তান চাম্পা রানী। অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ভবিষ্যতে ডাক্তার হবে। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তাই জিপিএ-৫ পেয়েও হাসি নেই পরিবারের মুখে। চাম্পা ডোমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার বাবা লখিন্দ্র রায় পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি ঢাকায় গিয়ে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন।

মা সৈবা বালা গৃহিণী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে চাম্পা বড়। জানা গেছে, তাদের নিজস্ব বাড়ির ভিটে কিংবা আবাদি জমি নেই। বাবার স্বল্প আয়ে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ছোট বোন টুম্পা রানী বর্তমানে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে এবং ভাই বিপ্লব রায়ও পড়াশোনা করছে। অভাবের সংসারে থেকেও পড়াশোনার প্রতি চাম্পার আগ্রহ ছিল প্রবল। কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে সে এবার জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ফলাফল প্রকাশের পর পরিবারে আনন্দ এলেও এখন সামনে নতুন দুশ্চিন্তা চাম্পাকে কলেজে ভর্তি করানো এবং তার পড়াশোনার খরচ চালানো। চাম্পা রানী জানায়, তার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবা করতে চায়। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা তার স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাম্পার বাবা বলেন, মেয়ের ভালো ফলাফলে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। কিন্তু নিজের সীমিত আয়ে মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ চালানো তার জন্য কঠিন। মেয়েটির পড়াশোনা যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, এটাই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

ডোমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজা বুলবুল বলেন, মেধাবী এই শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করা গেলে সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারবে। অর্থের অভাবে যেন একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ না হয়, সেজন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সহায়তাকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, আর্থিক সংকটে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। চাম্পার পরিবার যোগাযোগ করলে বিষয়টি আমরা দেখবো। চাম্পার চোখে এখন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থের সংকট। একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেই হয়তো থেমে যাবে না তার পথচলা।