নতুন সংকটে ইনফান্তিনো

নতুন সংকটে ইনফান্তিনো

ফন্ট সাইজ:

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এখন অস্তিত্বের সংকটে। বিশ্বকাপের লভ্যাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পাঁয়তারা এবং টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নির্ধারণের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে তার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক অসন্তোষ চরমে উঠেছে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ব জুড়ে ফুটবল সমর্থকদের বিভিন্ন সংগঠন ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে একটি যৌথ অনলাইন পিটিশন চালু করেছে।

‘ওহভধহঃরহঙঁঃ’ হ্যাশট্যাগযুক্ত এই পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘ফিফা সভাপতির একক প্রচেষ্টায় বিশ্বকাপকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা ফুটবলের ইতিহাসের এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা।’ সমর্থকদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ফিফার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে এবং সংস্থার প্রতি বিশ্ববাসীর সমস্ত আস্থা কেড়ে নিয়েছে। পিটিশনে ফিফাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

এই আন্দোলনে ইউরোপের ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’, আফ্রিকার ‘ফুটবল সাপোর্টার্স আফ্রিকা’, উত্তর আমেরিকার ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট সাপোর্টার্স কাউন্সিল’সহ বিশ্বের প্রায় ৪০টি জাতীয় সমর্থক গোষ্ঠী যুক্ত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ফিফা বা ইনফান্তিনো কোনো আলোচনা ছাড়াই ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপের টিকিটের চরম মূল্য নির্ধারণ করেছেন, যা সাধারণ ভক্তদের সঙ্গে একধরনের প্রতারণা। এছাড়া ইতিপূর্বে ইউরোপিয়ান সুপার লীগ সমর্থন এবং প্রতি দুই বছর পর বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যর্থ চেষ্টার কারণেও তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন।

ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা (উয়েফা) পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল সংস্থা (এএফসি) এবং উত্তর, মধ্য ও ক্যারিবিয়ান ফুটবল সংস্থা কনকাক্যাফের শীর্ষ নেতৃত্বও তার কাজের তীব্র সমালোচনা করেছে। যদিও কাতার, মরক্কো ও লেবাননের মতো কিছু সদস্য দেশ এখনো তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো এখনো তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানায়নি।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যেভাবে হটানো সম্ভব ইনফান্তিনোকে
আগামী বছরের নির্বাচনের আগে ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তাকে পদ থেকে সরানো কি সত্যিই সম্ভব? ফিফার নিয়ম বলছে, এই প্রক্রিয়াটি বেশ সুনির্দিষ্ট।
অনন্য কংগ্রেস আহ্বান: ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের অন্তত ২০ শতাংশ অর্থাৎ ন্যূনতম ৪৩টি দেশ লিখিত অনুরোধ জানালে ফিফা কাউন্সিল একটি অসাধারণ কংগ্রেস ডাকতে বাধ্য।
কনফেডারেশনের ক্ষমতা: উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ বা ৪৭ সদস্যের এএফসি একা চাইলেই এই অনাস্থা ভোট আহ্বানের ক্ষমতা রাখে। নিয়ম অনুযায়ী, অনুরোধ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে এই কংগ্রেস আয়োজন করতে হয় এবং এজেন্ডা পরিবর্তন করা যায় না।

ভোটদান পদ্ধতি: এই কংগ্রেসে প্রতিটি দেশের একটি করে ভোট থাকে এবং কেবল সশরীরে উপস্থিত সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোই ভোট দিতে পারে (প্রক্সি বা চিঠির মাধ্যমে ভোট দেয়ার সুযোগ নেই)।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ফিফার সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো সিদ্ধান্ত বা নির্বাচন বৈধ হওয়ার জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি বা ৫০ শতাংশের বেশি ভোটের প্রয়োজন হয়।
পরবর্তী নেতৃত্ব: ইনফান্তিনো অনাস্থা ভোটে হেরে গেলে পরবর্তী কংগ্রেস না হওয়া পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতম সহ-সভাপতি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।