কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ হুমকির মুখে আবাদ

কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ হুমকির মুখে আবাদ

ফন্ট সাইজ:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কৃষিজমি থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের জমি ও বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। সমপ্রতি উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চির্কা চাঁদপুর ও মধ্য চাঁদপুর এলাকায় কয়েকটি কৃষিজমি থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসের কর্মীরা বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ফলে দিনে ড্রেজার বন্ধ রেখে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। সরজমিন দেখা যায়, মধ্য চাঁদপুর গ্রামের কুদ্দুস খানের মালিকানাধীন একটি জমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

উত্তোলন করা বালু প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দূরের অপর কৃষিজমি ভরাটের কাজে ব্যবহারের দৃশ্যও দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. লতিফ নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ড্রেজারটি ঠিকাদারি ভিত্তিতে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থলে ড্রেজার মালিককে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে চির্কা চাঁদপুর এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মনির হোসেনকে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মনির হোসেন জানান, কয়েকদিন আগে তিনি বালু উত্তোলন বন্ধ করতে ঘটনাস্থলে গেলে তার সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়। তিনি দায়িত্ব পালন করতে থাকলে তাকে বলা হয়- “বাড়াবাড়ি করলে মাসুমের মতো স্ট্যান্ড রিলিজ কইরা দিমু। হুমকির বিষয়টি তিনি স্বীকার করলেও কে বা কারা তাকে হুমকি দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।” ‘মাসুমের মতো স্ট্যান্ড রিলিজ’ কথাটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিসে মাসুম নামের একজন কর্মচারীর কর্মস্থল ছিল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তার বদলির আদেশ হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বদলির বিষয়টি দেখিয়ে ভূমি অফিসের কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বলেন, কৃষিজমিতে স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে কৃষি আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষিজমি রক্ষায় কৃষি বিভাগ কাজ করছে বলেও জানান তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।