ভোলার দৌলতখানে অবৈধভাবে মজুতকৃত কয়েকটি তেলের গোডাউন, বসতঘর ও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে দৌলতখান পৌরশহরের স্লুুইস গেট সংলগ্ন বেড়িবাঁধের উপর এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে গোডাউন, বসতঘর ও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় আগুনের লেলিহান শিখা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ভোলা ও দৌলতখানের ২টি ইউনিট ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিসের ২ জন কর্মীসহ ৫ জন আহত হয়। আগুনে বসতঘর পুড়ে যাওয়া ছাদেক জানান, আমরা এখানে ৩২ বছর ধরে বসবাস করছি। আজ পরিবার-পরিজনসহ নিঃস্ব হয়ে গেলাম। তিনি বলেন, আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তবে এখন আমাদের দাবি হচ্ছে এখানে ব্ল্যাকের তেলের গোডাউন রাখতে পারবে না। আমরা অসহায় মানুষ ওয়াপদার জায়গায় থাকি। কিন্তু তারা প্রভাবশালী হওয়ায় এখানে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেনের, পামওয়েল তেলের ব্যবসা করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউনের ব্যবসায়ীরা হলেন- শাহাবুদ্দিন, ইকবাল, সিরাজ, আব্দুর রহমান, মহিজল মাঝি, মিলন, হানিফ ফরাজী, সাইফুল্লাহ, কালু বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরের মালিক হলো- ছাদেক, জয়নাল আবেদীন, শামীম, ও মহিজল। স্থানীয় বাসিন্দা ইস্রাফিল জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহাবুদ্দিনের তেলের গোডাউনের ভেতর পামওয়েলের ঘন তেল কারেন্টের হিট দিয়ে গরম করে পাতলা করার সময় পাশে থাকা ডিজেলের কাটা ড্রামে তাপ লেগে আগুনের সূত্রপাত হয়ে এ ঘটনা ঘটে। পৌর ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুমন জানান, যদি গোডাউন থাকে তাহলে ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে আমরা পরিবার-পরিজন সন্তানদের নিয়ে কেউই বাঁচতে পারবো না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল মতিন খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলে আগুন লাগার কারণ ও গুদামে তেল রাখার বৈধতা সম্পর্কে জানা যাবে।
