চার যুগ ধরে বন্ধ হবিগঞ্জ-বাল্লা রেলপথ

চার যুগ ধরে বন্ধ হবিগঞ্জ-বাল্লা রেলপথ

ফন্ট সাইজ:

কতো এমপি-মন্ত্রী আসলেন, গেলেন কিন্তু হবিগঞ্জ বাল্লা ট্রেনটি কেউ চালু করতে পারেননি। নির্বাচন আসলেই বাল্লা ট্রেন চালু করার আশ্বাস দেয়া হয়। নির্বাচনী বৈতরনি পার হওয়ার পর বেমালুম ভুলে যান জনগণকে দেয়া আশ্বাসের কথা। বিগত চার যুগ ধরে বন্ধ হয়ে আছে এ রেল পথটি। দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় শত শত কোটি টাকার সম্পদ হয়েছে বেহাত। দল-মত নির্বিশেষে দখল করা হয়েছে রেলের জমি-সম্পদ। দেশ স্বাধীনের আগে বাল্লা রেলপথ ছিল এই অঞ্চলের চা-শিল্প ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র। বৃটিশ আমলে নির্মিত এই রেলপথটি এখন কেবল স্মৃতি। আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে ১৯২৮ সালে হবিগঞ্জ থেকে বাল্লা পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এই রুটে হবিগঞ্জ বাজার, হবিগঞ্জ কোর্ট, ধুলিয়াখাল, পাইকপাড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, বড়কোটা, সুতাং বাজার, চুনারুঘাট, আমুরোড, আসামপাড়া ও সীমান্তবর্তী বাল্লা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করতো।

তখন চুনারুঘাট উপজেলার ১৮টি চা-বাগানের উৎপাদিত চা রপ্তানি ও শ্রমিকদের রেশন, জ্বালানি তেল ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের ধান-চালসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল এই ‘বাল্লা লোকাল’ ট্রেন। সে সময় কয়লার ইঞ্জিনের পরিবর্তে ডিজেল ইঞ্জিন যুক্ত করা হয় এবং দিনে দু’বার ১২টি স্টেশনের মাঝে বাল্লা ট্রেনটি চলাচল করতো। এক সময় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় রেলপথটির অবনতি শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে ট্রেনটি চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন ও লোকসানের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে গেলে ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ১৯৮০-এর দশকে প্রথমবার এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। পরে কয়েক দফা সীমিত পরিসরে চালু হলেও ১৯৯১ সালে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছুদিন চলার পর ২০০২-২০০৩ সাল থেকে এই রুটে স্থায়ীভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই রেলপথ পুনরায় চালু হলে এই অঞ্চলের চা-শিল্প ও অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে।