স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেবীপুরের রাস্তায় ইট পড়েনি

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেবীপুরের রাস্তায় ইট পড়েনি

ফন্ট সাইজ:

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে। বদলে গেছে দেশের আনাচে-কানাচের যোগাযোগব্যবস্থা। প্রত্যন্ত অনেক গ্রামের মেঠোপথও এখন পাকা সড়কে রূপ নিয়েছে। কিন্তু শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের মানুষের ভাগ্যে সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি। প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কটি এখনো কাঁচা। স্বাধীনতার পর থেকে এই সড়কে একটি ইটও পড়েনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্ষা এলেই দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। সড়ক জুড়ে তৈরি হয় হাঁটুসমান কাদা, খানাখন্দ আর পানি। পায়ে হেঁটে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষায়, এ দুর্ভোগ শুধু রাস্তা পার হওয়ার কষ্ট নয়; কখনো কখনো তা জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। গ্রামের বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই কাঁচা রাস্তা দেখে আসছি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় এখনো একটি ইটও পড়েনি।

আমার বড় ভাই স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নিতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত রাস্তাতেই তার মৃত্যু হয়। প্রসূতি নারীদের নিয়েও রয়েছে চরম উদ্বেগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের কথা বলা হলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সাবেক ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী বলেন, ১৯৯৭ সালে আমি মেম্বার থাকাকালে রাস্তায় মাটি ফেলার ব্যবস্থা করেছিলাম। এরপর আর সেভাবে মাটিও দেয়া হয়নি।

শুধু যাতায়াত নয়, রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। উৎপাদিত ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি পরিবহন খরচ গুনতে হয়। গ্রামবাসীর আক্ষেপ, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাসের একটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা এমন থাকবে কেন- একটি পাকা রাস্তার জন্য আর কতো বছর অপেক্ষা করতে হবে। গ্রামবাসীর দাবি, দ্রুত সরজমিন পরিদর্শন করে প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেয়া হোক।

তাদের প্রত্যাশা, একদিন এই কাদামাখা পথ দিয়েই এম্বুলেন্স নির্বিঘ্নে গ্রামে ঢুকবে, শিক্ষার্থীরা স্বস্তিতে বিদ্যালয়ে যাবে এবং কোনো স্বজনকে আর চিকিৎসার অভাবে কিংবা রাস্তায় আটকে জীবন হারাতে হবে না।