লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ফন্ট সাইজ:

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। নবায়নের আবেদন করেই বছরের পর বছর ধরে রোগী দেখা, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এদের বেশির ভাগেরই পরিবেশ ছাড়পত্রসহ সরকারি অন্য দপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেই। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চললেও নির্ধারিত সময়ে লাইসেন্স নবায়ন না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের সেবার মান ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলায় মাহতাব-বাছিয়া নামে একটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং আটটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।

এগুলো হলো- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে অবস্থিত মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রেইনবো ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ঝিটকা বাজারে অবস্থিত ডা. লুৎফর রহমান ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডা. আনোয়ার হাসপাতাল, আবির মেডিকেল সেন্টার, পায়রা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হাসপাতাল নাম ব্যবহার করলেও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন করেছে আনোয়ার হাসপাতাল। অপরদিকে, স্বাস্থ্যবিভাগের লাইসেন্স পাওয়ার আগেই কার্যক্রম শুরু করেছে শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাহতাব-বাছিয়া হাসপাতালের লাইসেন্স ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত নবায়ন আছে ডা. লুৎফর রহমান ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এছাড়া, আবির মেডিকেল সেন্টার সর্বশেষ ২০১৯-২০২০ অর্থবছর, পায়রা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ২০২০-২০২১, মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ২০২৩-২৪, ডা. আনোয়ার হাসপাতাল ২০২৩-২০২৪ এবং রেইনবো ডায়াগনস্টিক সেন্টার ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত নবায়ন করা আছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন, নবায়নের আবেদন করলেও মাদকদ্রব্য ছাড়পত্র, পরিবেশ ছাড়পত্র ও ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রের অভাবে নবায়ন পাচ্ছেন না তারা।

গত ছয় অর্থবছরেও লাইসেন্স নবায়ন না করা আবির মেডিকেল সেন্টারের মালিক ডা. এম এ হালিম বলেন, আমরা নবায়নের জন্য আবেদন করে রেখেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের অভাবে নবায়ন পাচ্ছি না। ২০১৫ সালে আমি পরিবেশ ছাড়পত্রের আবেদন করেছি। দীর্ঘ ১১ বছরেও পরিবেশ ছাড়পত্র পাইনি। শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মো. মহসিন মিয়া বলেন, লাইসেন্সের জন্য আবেদন জমা দেয়া আছে। ইতিমধ্যে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ ও কলকারখানার কাগজপত্র পেয়েছি। এখন শুধু স্বাস্থ্যবিভাগের কাগজটা বাকি আছে। জানা যায়, ১৯৮২ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ল্যাবরেটরি পরিচালনা করা যায় না। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করাও বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী একেএম রাসেল বলেন, আমরা দ্রুতই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো। মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দ্রুতই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।