২০২০ সালে পঞ্চগড় জেলায় শুরু হয়েছিল চা চাষ কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে আরও ৪টি জেলায়। বর্তমানে এ ৫টি জেলার বড় ও ছোট ৮ হাজার ৪০১টি চা বাগানে ১১ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৮৯ একর জমিতে চায়ের চাষাবাদ হচ্ছে। এরই মধ্যে এ অঞ্চলটি চা উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু বৃহৎ এই অঞ্চলটির চা চাষাবাদের জন্য এখন পর্যন্ত আলাদাভাবে সারের বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়নি। বারবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। এতে প্রতি বছর সার সংকটে পড়ে চা চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। চা বোর্র্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাধীন ৫টি জেলার বাগানগুলো থেকে ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ দশমিক ৬১১ কেজি সবুজ চা পাতা উৎপাদিত হয়েছে। এ চাপাতা ৩১টি কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে ২ কোটি ২ লাখ ৪২ দশমিক ০৫২ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে।
যা জাতীয় উৎপাদনের ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
চলতি মৌসুমে এসব চা বাগানে দেয়ার জন্য ২ হাজার টন ইউরিয়া, ৫০৭ টন টিএসপি ও ১ হাজার ১০০ টন এমওপি সারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। চা সেক্টরটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে চা চাষাবাদের জন্য আলাদাভাবে সারের বরাদ্দ দেয় না। বোরো, আমন ও অন্যান্য ফসলের আবাদের জন্য যে সার বরাদ্দ দেয়া হয় সে থেকে চা চাষিরা ক্রয় করে বাগানে প্রয়োগ করেন। এতে উভয় চাষি সার সংকটে পড়েন। বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, চায়ের আবাদ প্রতি বছর বাড়ছে। ক্ষুদ্র চা চাষিরা বাড়ির আনাচে কানাচে চায়ের আবাদ করছেন। সে তুলনায় সারের বরাদ্দ কম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শুধুমাত্র কৃষিজ ফসলের জন্য সার বরাদ্দ দেয়। চা চাষাবাদের জন্য আলাদা সারের বরাদ্দ দেয় না।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, পঞ্চগড় জেলায় প্রায় দেড় লাখ একর জমিতে আমন ও বোরো আবাদ হয়। এ ছাড়া বাদাম, মরিচ, টমেটো, শাক-সবজি, গম, পাট, মালটা, আমসহ নানা ধরনের ফসলের চাষাবাদ হয়। এসব আবাদের জন্য আমাদের কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ৪৬ হাজার ৩৯৯ টন ইউরিয়া, ১৮ হাজার ৫৮১ টন টিএসপি ও ২২ হাজার ৫৪৬ টন এমওপি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। চা চাষের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে সার বরাদ্দ দেয়া হয় না। চা চাষিরা আমাদের বরাদ্দের সার সংগ্রহ করে চা বাগানে প্রয়োগ করেন। ফলে সারের সংকট সৃষ্টি হয়। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে বারবার চা বোর্ডকে বিষয়টি জানিয়েছি। চা শিল্প যেহেতু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তাই কৃষি মন্ত্রণালয় চায়ের জন্য সার বরাদ্দ দিচ্ছে না।
