চট্টগ্রাম নগরের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এসব চুড়ির ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি, যা প্রায় ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম। এ ঘটনায় দোকানের এক সেলসম্যানসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. সোহেল। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও পরিদর্শক (তদন্ত) আবিদ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, নগরের প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’-এ দীর্ঘ ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন রোমেন দে (৩৬)। গত ১৪ আগস্ট দোকানের স্বর্ণের মজুত যাচাইয়ের সময় ৫৩টি চুড়ি কম পাওয়া যায়। পরে দোকানের সাতটি বাক্সে স্বর্ণের চুড়ির পরিবর্তে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় দোকানের মালিক বিপ্লব বসাক পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, আত্মসাৎ করা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ির ওজন প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা। মামলার তদন্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে ১৮ই আগস্ট রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দে’কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চুড়িগুলো বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে রেখে দেয়ার কথা জানান। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মডার্ন ইরানী জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্যামল সিংহের কাছে ৪৬টি চুড়ি বন্ধক রাখার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ১৯শে আগস্ট বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিয়াখান নগর রোডের ওই জুয়েলারি দোকান থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে শ্যামল আরও জানান, বাকি চুড়িগুলোর একটি অংশ নগরের বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে রাখা হয়েছে। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী কোতোয়ালি, বাকলিয়া ও চকবাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সেগুলোও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের হিসেবে, বিভিন্ন স্থান থেকে সব মিলিয়ে ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি বা ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রোমেন দে, শ্যামল সিংহ, জয় দে ওরফে বাবু (২২), রনি দে (২৮), স্বপ্না দে (৫৫) ও ইমন দে (১৯)।
পুলিশ জানিয়েছে, স্বর্ণ আত্মসাৎ এবং পরে বিভিন্ন স্থানে বন্ধক রাখার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।
