মাদারীপুর জেলার শিবচরে এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন বাখরেরকান্দি এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত ফারুক নিহত ওই নারীর এক বছর বয়সী শিশু সন্তানকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে হত্যার কথাও প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাহউদ্দীন কাদের। শুক্রবার দুপুরে অভিযান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, গত বুধবার উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি গ্রামের খান বাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার অপর পাশে পরিত্যক্ত স্থানে ঝোপের মধ্য থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায়, ওই নারীর নাম শাম্পা খাতুন। সে নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।’ নিহত শাম্পা খাতুনের বাবার বরাত দিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার সালাহউদ্দীন কাদের বলেন, ‘গত তিন বছর পূর্বে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড় মেহের এলাকার ছিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার মেয়ে শাম্পার বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান আছে। গত বুধবার তারা খবর পান, তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নাতি আবির নিখোঁজ আছে।’
মামলা দায়েরের পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) এর নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও মাদারীপুর র্যাব হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে অভিযান চালায়। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে শিবচরের ওই এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে ফারুক মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত ওড়না (পোড়ানো), নাকফুল, গলার চেইন, একজোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত ফারুক মোল্লা খুলনার তেরখাদার জয়সোমা এলাকার রতন মোল্লার ছেলে। সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দীন কাদের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এবং এক বছর বয়সী সন্তানকে আড়িয়াল খাঁ নদের ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে হত্যার কথাও প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়। আমরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছি।’
