কুমিল্লার হোমনায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তা সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরিদা আবেদীন বাদী হয়ে হোমনা থানায় মামলাটি করেন। এতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মো. মোসলেম সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের আসামি করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার রাতে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দড়িচর বাজারে উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ চাল অন্যত্র নেয়ার সময় স্থানীয়রা তা আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৫ কেজি ওজনের ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার করে থানায় নেয়। খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা।
অভিযোগ রয়েছে, উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে চালগুলো অন্যত্র নেয়া হচ্ছিল। তবে চালগুলো কোথায় নেয়া হচ্ছিল এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সরকারি ভাতা ও সুবিধাভোগীর তালিকা যাচাই বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন কিনা এবং বরাদ্দ যথাযথভাবে বিতরণ হচ্ছে কিনা, তা প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে যাচাই করা প্রয়োজন। হোমনা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরিদা আবেদীন বলেন, সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মামলা করেছেন। হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া বলেন, খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, চাল জব্দের পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মো. মোসলেম সরকারকে বিএনপি’র সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
