আমরা ডাকাত নই, মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতে চাই

আমরা ডাকাত নই, মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতে চাই

ফন্ট সাইজ:

আমরা ডাকাত নই। মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতে চাই। মিথ্যা ডাকাতির মামলায় অতিষ্ঠ। ডাকাতি মামলার ঘটনায় এলাকার চেয়ারম্যানসহ গ্রামবাসী ও আদালতের আদেশে পুলিশও তদন্ত করে এর সত্যতা পায়নি উল্লেখ করে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে। এরপরও মামলা ঝুলছে কয়েক বছর ধরে। মিলছে তারিখের পর তারিখ। মামলার খরচ জোগাড় করতে না পেরে, মামলার বিবাদী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। এরপরও থেমে নেই প্রতিপক্ষ। আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। আদালতের রায় যাই হোক এর থেকে পরিত্রাণ চাই। আক্ষেপের সুরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন- রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের গড়াল চৌকি গ্রামের আজাদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এ ঘটনায় সরজমিন এলাকাবাসীর কাছে জানা যায়, বাড়ি উচ্ছেদ করে জমি দখল নিতে না পেরে প্রভাবশালী চাচাতো ভাই মোতালেব তার ভাই ইলিয়াছকে দিয়ে একের পর এক প্রায় ২০টি মামলা করেছে আজাদ আলীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের ৭ই জানুয়ারি ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে ইলিয়াছ বাদী হয়ে তার চাচাতো ভাই জসিম, আজাদ, মাজেদ, ওমর এবং তাদের স্ত্রী-সন্তানসহ ১২জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়, বিবাদীগণ রাত ১১টায় ইলিয়াছের বাড়িতে লাঠি, ছোরা, বল্লম ও লোহার রড নিয়ে প্রবেশ করে মার-ডাং শ্লীলতাহানিসহ বাক্স ভেঙে স্বর্ণের চেইন, কানের ঝুমকা, আংটিসহ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫শ’ টাকা মূল্যের গহনা ও ব্যাগে রক্ষিত নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

আদালত এ মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই’কে নির্দেশ দেয়। পিবিআই’র এসআই দুলাল চন্দ্র অধিকারী তদন্ত করে এ ডাকাতির ঘটনায় কোনো সত্যতা পাননি উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেন। সেইসঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, দুই পরিবারের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধসহ একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ মামলার খরচের টাকা জোগাড় করতে না পেরে রাগে-ক্ষোভে মামলার বিবাদী ওমর আলী বিষপানে আত্মহত্যা করলে মর্মাহত হয়ে পড়ে গ্রামবাসী।

বালারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত বলেন, আজাদ, মাজেদ, জসিম ও ওমরের নামে মামলার বিষয় আমি নিজেই তদন্ত করে কোনো সত্যতা পাইনি। এছাড়াও জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি একাধিকবার সালিশি বৈঠক করেও ব্যর্থ হয়েছি। গ্রামের মঞ্জুম, নজরুল, মরিয়মসহ অন্যরা বলেন, এখানে ডাকাতির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বিষয়টি হাস্যকর। পুরো গ্রামজুড়ে কোনোদিন কোথাও ডাকাতি হয়নি। আজাদ, জসিমসহ পরিবারটি নিরীহ। বাদী-বিবাদী দু’পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। আমরা এলাকাবাসী ও সচেতন জনগণ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণস্বাক্ষর দিয়েছি। ধিক্কার জানিয়েছি ইলিয়াছের এমন কর্মকাণ্ডে।

এ ব্যাপারে বাদী ইলিয়াছের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমার জমি তারা দখলে নিয়েছে। জমি দিয়ে দিক মামলা থাকবে না। উল্লেখ্য, ইলিয়াছ-মোতালেবের পিতা মৃত ইউসুফ ও আজাদ-জসিমের পিতা তছলিম তাদের একে-অপরের জমি প্রায় ৩০ বছর আগে মৌখিকভাবে অদল-বদল করে। পরবর্তীতে ইউসুফের জমি জারি ঘাঘট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে তিনি তছলিমের জমি নিজের বলে দাবি করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলার খেলা।