২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের মধ্যদিয়ে বিভিন্ন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন দেশের মানুষ। ইতিবাচক অনেক ঘটনার পাশাপাশি নেতিবাচক ঘটনারও দেখা মিলেছে। এর মধ্যে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে যেতে হয়েছে কঠিন অবস্থার মধ্যদিয়ে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট, মঞ্চ নাটক ও শুটিং বন্ধের ঘটনা চোখে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে একটি শ্রেণির বাধার মুখে পড়ে একের পর এক কনসার্ট পণ্ড হতে থাকে। অনেকেই ভেবেছিলেন নতুন সরকার গঠনের পর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ফিরে আসবে স্বস্তি। কনসার্ট কিংবা শুটিং পণ্ড হওয়ার মতো ঘটনা আর ঘটবে না। কিন্তু অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। নানা কারণে কনসার্ট পণ্ড হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে একটি শ্রেণির বাধার মুখে কনসার্ট স্থগিত হওয়ার ঘটনা শিল্পীদের মনে শঙ্কা তৈরি করেছে। অনিশ্চয়তার একটি আভাস তারা এসব ঘটনার মধ্যদিয়ে পাচ্ছেন।
কাছাকাছি সময়ে বুধবার কিশোরগঞ্জে অ্যাশেজ ও কণ্ঠশিল্পী নোবেলের কনসার্ট স্থগিত করা হয়। ইমাম-উলামা পরিষদ ও তৌহিদী জনতার তোপের মুখে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে কনসার্ট বাতিল ঘোষণা করেন আয়োজকরা। কনসার্টের ঠিক আগের দিন মঙ্গলবার রাতে প্রশাসন থেকে এই কনসার্টটি আয়োজন করা যাবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে হামলা করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে। উচ্চস্বরে গান-বাজনা করাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাছাত্ররা সেখানে হামলা চালায়। এতে পণ্ড হয়ে যায় জেলা পুলিশ আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং মাদ্রাসাছাত্রদের হামলায় দু’পক্ষের ৩০-৩৫ জন আহত হয়। মঙ্গলবার রাতের এ ঘটনায় উত্তেজনা ছিল ভোর পর্যন্ত। পরে আলোচনায় বসে মাদ্রাসাছাত্রদের উত্থাপিত সব দাবি মেনে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এর আগে ১লা আগস্ট রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে ‘ওয়ান ট্রু সাউন্ড উইথ অনুপম রায়’ শীর্ষক কনসার্টটি হওয়ার কথা ছিল। এর দু’দিন আগে মধ্যরাতে আয়োজকরা জানায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কনসার্টটি বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, চার ব্যান্ড নিয়ে ‘সকারামা’ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১৮ই আগস্ট। কিন্তু তা একদিন আগে স্থগিত করা হয়।
নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং রাত ৮টার মধ্যে সমস্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ করার সরকারি নির্দেশনার কথা বিবেচনায় রেখে আয়োজকরা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এদিকে, একের পর এক কনসার্ট বাতিল হওয়ার ঘটনায় শিল্পী ও মিউজিশিয়ানরা পড়েছেন বিপাকে। কারণ তাদের আয়ের অন্যতম পথই হলো স্টেজ শো। সেদিক থেকে অনেক শিল্পীই সামাজিক মাধ্যমেও এ বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে জানিয়েছেন শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার কথাও। কণ্ঠশিল্পী মিজান মাহমুদ রাজীব সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, কিশোরগঞ্জে ধর্ম ব্যবসায়ীদের অনুরোধে কনসার্ট বাতিল! প্রশাসন যদি এখন শক্ত হাতে এসব দমন না করেন তাহলে দেশের সংস্কৃতির ১২টা বাজতে ১২ মাসও লাগবে না। এরা মুখোশধারী।
বলাৎকার, শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে এদের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু গানের অনুষ্ঠান হলেই এদের রক্তে আগুন ধরে যায়। রাজীবের সেই পোস্টে কণ্ঠশিল্পী সোহেল মেহেদী লিখেছেন, এখনো কঠোর না হলে সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কণ্ঠশিল্পী ইমন খান লিখেছেন, এখনই কঠোরভাবে এদের দমন করতে হবে। সংগীতশিল্পী শিল্পী বিশ্বাস লিখেছেন, বাহ্ কি সুন্দর, সব প্রোগ্রাম ক্যানসেল হচ্ছে। এদিকে, শিল্পীদের অনেকেই এ বিষয়ে দাবি জানিয়েছেন সরকারি হস্তক্ষেপের। না হলে এভাবেই একের পর এক কনসার্ট বন্ধ হতে থাকবে। আর শিল্পী ও মিউজিশিয়ানরা পড়বে আরও ভয়াবহ সংকটে। বিষয়টি দ্রুতই সুরাহা না হলে গান তথা সংস্কৃতির পরিসরও হয়ে আসবে ছোট থেকে আরও ছোট।
