২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার এক মাস পূর্ণ হলো গত বুধবার। এই এক মাসেও যেন ক্ষোভ কাটেনি আলবিসেলেস্তে শিবিরে। সম্প্রতি নিজেদের অফিসিয়াল সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। সেখানে দলটি সরাসরি অভিযোগ তুলেছে, তাদের বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছানো ঠেকাতে মাঠে নেমেছিল এক সুসংগঠিত ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণাযন্ত্র’।
তবে শত সমালোচনা ও ষড়যন্ত্রের জল্পনা ভেদ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ভুলে যাওয়ার মত এক পারফর্মেন্সে ১-০ গোলে হেরে যায় লিওনেল স্কালোনির দল। ১২০ মিনিটের খেলার একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হয় তারা। তবে বিশ্বকাপের পুরো যাত্রাকে ‘অদম্য জেদের প্রতীক’ হিসেবে দেখছে আর্জেন্টিনা। এদিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি লিওনেল মেসি ভক্তের বুকও এখন এই গৌরব আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী।
ভিডিওটির শুরুতেই স্মরণ করা হয় সেই রোমাঞ্চকর পথচলা, যেখানে প্রতিটি ধাপে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখে বর্তমান রানার্সআপরা। সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে বিদায় করার ঐতিহাসিক মুহূর্তটিও বিশেষ স্থান পেয়েছে এই ভিডিওতে। সমালোচকদের উদ্দেশে ভিডিওবার্তায় বলা হয়, ‘এক মাস আগে এমন কিছু ঘটলো, যা অনেকেই ঘটতে দেখতে চাননি। আর্জেন্টিনা আরও একটি ফাইনালে খেললো।’
ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে আরও বলা হয়, ‘সব বাধা আর আমাদের দমনের যতই অ্যান্টি-আর্জেন্টিনা ক্যাম্পেইন বা চক্রান্ত হোক না কেন, এই দল সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঠিকই ফাইনালে পৌঁছে গেছে। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়েছি এবং মাথা উঁচু করে মাঠ ছেড়েছি।’
ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর লিওনেল মেসির কান্নার দৃশ্যটি পুরো জাতির জন্য এক গভীর বার্তা দিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ভিডিওর শেষাংশে বলা হয়, ‘আমাদের অধিনায়কের চোখের জল আমাদের আবার শিখিয়েছে, আপনি হারতেই পারেন। তবে যা-ই ঘটুক না কেন, কখনোই চেষ্টা করা থামানো যাবে না।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের এই এক মাস পূর্তিতে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও একটি বার্তা প্রকাশ করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেই বার্তায় ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনা দল নিয়ে ওঠা ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে তিনি ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
