ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে ৫ উইকেট পাওয়ার স্মারক হিসেবে ম্যাচ বল নিজের করে নেয়ার ঐতিহ্য পুরোনো। তবে একই ইনিংসে দুই বোলার ৫ উইকেট পেলে বলটি কার ভাগে যাবে- এমন প্রশ্ন ওঠার অবকাশ খুব কমই থাকে। ইংল্যান্ডের পেসার ওলি রবিনসন ও জশ টাং হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে যা করলেন, তা ক্রিকেট বিশ্বে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়েই রইলো। দুই পেসারই ৫টি করে উইকেট শিকার করার পর ম্যাচ বলটি মাঝ বরাবর কেটে সমান দুই ভাগে ভাগ করে নিলেন!
হেডিংলি টেস্টের প্রথম দিন বুধবার ১৭১ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান দল। এদিন ইংল্যান্ডের ১০ উইকেটের সবকটিই নিজেদের ঝুলিতে ভরেন রবিনসন (৫) ও টাং (৫)। ইনিংস শেষে মাঠ ছাড়ার সময় পাশাপাশি থেকে হাত উঁচিয়ে দর্শকের অভিবাদনের জবাব দেন তারা। তখনই মাথায় আসে অভিনব এই খেয়াল।
অর্ধেক বল পাওয়ার পেছনের গল্প শুনিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রবিনসন বলেন, “মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় টাংকে বললাম, ‘আমার মনে হয় আমাদের এটা ভাগ করে নেয়া উচিত।’ সেও রাজি হলো। ক্রিকেটে তো অর্ধেক বল খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না! একই ইনিংসে দুই বোলারের ৫ উইকেটও রোজ ঘটে না। এটা এমন এক স্মৃতি, যা আমরা কখনো ভুলবো না।”
বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে জশ টাং বলেন, ‘রবোই (রবিনসন) প্রথম বুদ্ধিটা দেয়। গ্রাউন্ড স্টাফরা বেশ সদয় হয়ে নিখুঁতভাবে কাজটা করেছেন। জীবনে প্রথম এমন কিছু দেখলাম। নিশ্চিতভাবেই এটা ঘরের বিশেষ কোথাও টাঙিয়ে রাখবো।’
ইংল্যান্ডের সাদা বলের ইতিহাসে একই ইনিংসে দুই বোলারের ৫ উইকেট নেয়ার ঘটনা এর আগে ১৬ বার ঘটেছে। তবে পেসারদের এমন কীর্তি সর্বশেষ দেখা যায় ২০০৬ সালে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই স্টিভ হার্মিসন ও মন্টি পানেসার সেই কীর্তি গড়েন। প্রায় ২০ বছর পর সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন রবিনসন ও টাং।
ম্যাচের শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিং করা রবিনসনের জন্য এই পারফরম্যান্সের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। গত বৃহস্পতিবারই তার দ্বিতীয় কন্যা ইভা পৃথিবীর আলো দেখেছে।
সদ্যোজাত সন্তান ও স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে মাঠে নেমে এমন ঐতিহাসিক সাফল্য পাওয়া প্রসঙ্গে ৩২ বছর বয়সী এই পেসার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, ‘লিডসে আসার পর থেকেই ঘুম পুষিয়ে নেয়ার লড়াই করছি। নতুন শিশুর জন্ম সপ্তাহটাকে বিশেষ করে তুলেছে। ওদেরকে দূরে রেখে মাঠে এমন পারফর্ম করাটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার। পুরোটা সময় আমার মন পড়েছিল ওই এক জায়গায়।’
