কাবিননামায় বর-কনের পূর্ববর্তী ও বিদ্যমান বিয়ের তথ্য অন্তর্ভুক্তির দাবি

কাবিননামায় বর-কনের পূর্ববর্তী ও বিদ্যমান বিয়ের তথ্য অন্তর্ভুক্তির দাবি

ফন্ট সাইজ:

কাবিননামায় বর ও কনের পূর্ববর্তী ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত দায়-দায়িত্বের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান নোটিশটি পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর অধীন ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নং ১৬০১ বা ‘ঘ’ ফরমের বর্তমান কাবিননামা অসম্পূর্ণ ও অসমতাপূর্ণ। এতে বর ও কনের পূর্ববর্তী বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার তারিখ, চলমান বৈবাহিক মামলা এবং বিদ্যমান সন্তানের তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেই।

নোটিশে বলা হয়, এর ফলে কোনো ব্যক্তি পূর্বের একাধিক বিয়ে, বিদ্যমান বৈবাহিক সম্পর্ক, বিতর্কিত বা অনিবন্ধিত তালাক, সন্তান কিংবা আগের পরিবারের প্রতি চলমান ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বসংক্রান্ত দায় গোপন করে নতুন বিয়েতে আবদ্ধ হতে পারেন। এতে প্রতারণার সুযোগ তৈরি হয় এবং নতুন জীবনসঙ্গীর জ্ঞাতসারে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।

নোটিশে কাবিননামা সংশোধন করে বর ও কনের উভয়ের জন্য সমানভাবে প্রত্যেক পূর্ববর্তী ও বিদ্যমান বিয়ের তথ্য, সংশ্লিষ্ট স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিয়ে ও তালাকের তারিখ, স্থান ও নিবন্ধন নম্বর, বিবাহবিচ্ছেদের পদ্ধতি ও কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং প্রয়োজনীয় দলিল বা মামলার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বিদ্যমান সন্তান এবং তাঁদের বিষয়ে চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব বা অন্যান্য আইনগত দায় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ঘোষণা রাখার দাবিও জানানো হয়।

বিদ্যমান বিয়ে থাকা অবস্থায় নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা অনুযায়ী সালিশ পরিষদের লিখিত অনুমতির নম্বর ও তারিখ কাবিননামায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, বিয়ে ও তালাকের নথি এবং মৃত্যু সনদসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া একটি রায়ের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ওই রায়ে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল করা এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড নিরাপদে সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মূল কাবিননামায় প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘর না থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থাও অসম্পূর্ণ তথ্যই সংরক্ষণ করবে। তাই ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি মূল ফরম সংশোধন এবং নিবন্ধকদের ওপর সুস্পষ্ট যাচাইয়ের দায়িত্ব আরোপ করা প্রয়োজন।

আইনজীবী ইশরাত হাসান নোটিশে বলেন, অসম্পূর্ণ ও অসমতাপূর্ণ কাবিননামার ব্যবহার পারিবারিক জীবনে ক্ষতি সৃষ্টি করছে। এটি আইনের আশ্রয়, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকারের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।